একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রধান চালিকাশক্তি। মানুষ তাদের ˆদনন্দিন জীবনে সেই অগ্রগতির প্রভাব অনুভব করে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পারস্পরিক সম্পর্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি দরিদ্র দেশ, তার পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেনো, সাধারণত যুদ্ধ বা সংঘাতের দ্বারা ব্যাহত না হলে এগিয়ে চলতে থাকে। নেতৃত্বের গুণমান এবং জনগণের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে সেই অগ্রগতি ধীর বা দ্রুত হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিশ্বায়নের শক্তি। বাংলাদেশের ১৬০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে সবসময় এমন স্বপ্নদ্রষ্টারা রয়েছেন, যারা নিজেদের জীবন এবং অন্যদের জীবন উন্নত করতে চান। এই সম্মিলিত শক্তিই ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির মধ্যেও দেশ ও অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। মানুষ গ্রাম, শহর এবং পল্লীসমাজ সবখানেই অগ্রগতির আদর্শ অনুসন্ধান করে। কিন্তু মৌলিক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মানুষ প্রায়ই এক ধরনের উদাসীনতা প্রদর্শন করে। তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন নিয়ে বিদ্যমান নীরবতার পেছনে দু’টি কারণ রয়েছে। আমি মনে করি, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে মৌলিক পরিবর্তন দুইভাবে ঘটতে পারে। প্রথমত, মানুষকে এই বিষয়ে আশ্বস্ত হতে হবে যে প্রতিশ্রুত পরিবর্তন বাস্তবেই ঘটবে এবং যারা সেই পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলছেন তারা বিশ্বাসযোগ্য। বিশ্বাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এটি শুধু শিক্ষা ও দক্ষতার বিষয় নয়; বরং সততা, নৈতিকতা এবং সক্রিয় সম্পৃক্ততার সঙ্গেও সম্পর্কিত। মানুষ সাধারণত দেখতে চায় যে যারা পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন, তারা বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেছেন, ঝুঁকি নিয়েছেন এবং অবিচল অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছেন। দ্বিতীয়ত, পরিবর্তন ঘটতে পারে যদি দুঃশাসন নিজস্ব ভারেই ভেঙে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে একটি বড় সংকট সৃষ্টি হয় এবং লাখো সাধারণ মানুষ হঠাৎ করেই তাদের জীবিকা নিয়ে গুরুতর হুমকির মুখে পড়ে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং অত্যন্ত অস্থির একটি দেশ শাসন করা সহজ নয়। এই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি কর্তৃত্ববাদী শাসন শেষ পর্যন্ত টেকসই হয় না। কেউ কেউ এমন একটি পতনের অপেক্ষায় থাকতে পারেন। কিন্তু তার পরিণতি হতে পারে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য, যা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন সৃষ্টি করতে পারে। শেষ পর্যন্ত, এমন একটি পরিবর্তনের সুফলও আবার ভিন্ন একটি অভিজাত গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারে।স্বাধীনতার জন্য জনগণের নিজস্ব সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। এমন সংগ্রাম দীর্ঘ, কঠিন এবং নানাবিধ বাধায় পরিপূর্ণ। দুর্ভাগ্যবশত, খুব কম মানুষই সেই পথে হাঁটতে ইচ্ছুক। যারা হাঁটেন, তারাই শ্রদ্ধার যোগ্য হয়ে ওঠেন। তারাই প্রকৃত নেতা হয়ে ওঠেন। তবে নেতৃত্ব নিজেই সামাজিক রূপান্তরের সমগ্র প্রক্রিয়ার কেবল একটি অংশ। একজন নেতার আবির্ভাব দীর্ঘ সময়ের পরীক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং ভুল-শুদ্ধির মধ্য দিয়ে ঘটে। বাংলাদেশে যারা বছরের পর বছর গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন যদিও অনেক সময় আপসও করেছেন তারা মূলত পূর্ববর্তী প্রজন্মের মানুষ। বর্তমান রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলো অনেক দিক থেকেই সেই আগের সংগ্রামের সুফলভোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সমকালীন নির্বাচনী গণতন্ত্রের ব্যবস্থা সেইসব সংগ্রামেরই ফল। দেশকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে বিকল্প নেতৃত্ব এবং একটি নতুন বয়ান নির্মাণ প্রয়োজন, যার কোনোটিই রাতারাতি সৃষ্টি হতে পারে না। একজন ব্যক্তি নিজের জীবনমান উন্নত করার জন্য জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু একটি সমাজের মূল্যবোধ পরিবর্তন করতে হলে শত শত, হাজার হাজার মানুষের শিক্ষা, অভ্যাস এবং আচরণ পরিবর্তন করতে হয়। এ কারণেই একটি সামাজিক ব্যবস্থা এক, দুই কিংবা দশ বছরের মধ্যে পরিবর্তিত হয় না। প্রজন্ম পেরিয়ে যায়। একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক রূপান্তর হলো শত শত ও হাজার হাজার সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘটিত অসংখ্য ক্ষুদ্র পরিবর্তনের সমষ্টি।এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রের কেন্দ্রীয় বয়ানে পরিণত হয়েছিল, যা পরে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ নামে পুনঃব্র্যান্ডিং করা হয়। এটিকে উন্নয়নের প্রতীক, জনসেবা সম্প্রসারণের একটি পদ্ধতি এবং নাগরিক ক্ষমতায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আমাদের বলা হয়েছিল যে ডিজিটাল সংযোগ মানেই অগ্রগতি, মোবাইল ব্যাংকিং মানেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সিসিটিভি ক্যামেরা মানেই নিরাপত্তা এবং জাতীয় ডাটাবেস মানেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা। কিন্তু বাস্তবে এই কাঠামো ধীরে ধীরে এমন একটি নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার যন্ত্রে পরিণত হয়, যেখানে প্রযুক্তি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নয়, বরং নীরব আনুগত্য গড়ে তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নয়, বরং প্রশ্নহীন আনুগত্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা জোরদার করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাষ্ট্র নির্মাণ কৌশলের একটি অংশ। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিকে আধুনিকতার বাহ্যিক চিত্র তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হলেও মানুষকে আরও গভীর অন্ধকারে রাখা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল, যার মাধ্যমে সামান্য ভিন্নমতও কঠোরভাবে দমন করা হতো; বহু ক্ষেত্রে মানুষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কারাবরণ, গুম এবং এমনকি মৃত্যুর শিকার হয়েছে।এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্প কার্যত এমন একটি জনগোষ্ঠী তৈরি করেছে যারা তথ্য গ্রহণ করে, কিন্তু সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করে না। এই নাগরিকরা স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে, ফরম পূরণ করে এবং ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায়, কিন্তু খুব কমই রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করে। তারা সার্ভারের আপডেট নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে, কিন্তু গণতন্ত্রের ধারণা সম্পর্কেই উদাসীন থাকে। এই একমাত্রিক নীরবতার বিপরীতে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি কেবল রাজপথের একটি আন্দোলন ছিল না; বরং ডিজিটাল পরিসরেও একটি বিকল্প বয়ানের সূচনা করেছিল। ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক, প্রামাণ্যচিত্র, অনুবাদ এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ চিন্তাশীল ডিজিটাল প্রতিরোধের নতুন রূপ নির্মাণ শুরু করে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে তথ্যপ্রযুক্তি কেবল রাষ্ট্রের নজরদারির বাহন হওয়ার প্রয়োজন নেই; এটি বিকল্প সংগঠন এবং সম্মিলিত কর্মকাণ্ডেরও একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। আন্তোনিও গ্রামশির ভাষায়, তারা ‘অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়াল’-এ পরিণত হয়েছে—এমন ব্যক্তি, যারা বিদ্যমান ব্যবস্থার ভাষা পুনরাবৃত্তি না করে, প্রতিরোধের নতুন বয়ান সৃষ্টি করতে সক্ষম।তরুণরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে একটি স্মার্টফোন শুধু টিকটকের জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র নয়; এটি রাষ্ট্র সম্পর্কে চিন্তা করার একটি মোবাইল প্ল্যাটফর্মও হতে পারে। একটি ফেইসবুক পোস্ট একটি ঐতিহাসিক দলিলে পরিণত হতে পারে। একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তাদের অনেকেই শুধু প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ নয়; নৈতিকভাবে দৃঢ় এবং রাজনৈতিকভাবেও সচেতন। এই অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে রাষ্ট্র সম্পর্কে একটি বিকল্প কল্পনার পথ উন্মুক্ত করে—যাকে আমরা বলি ক্রিটিক্যাল বাংলাদেশ: এমন একটি চিন্তাশীল, নৈতিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের কল্পনা, যা প্রচলিত উন্নয়নের মিথের বাইরে বিকল্প বাস্তবতা নির্মাণ করতে চায়। এটি কোনো সরকারি প্রকল্প নয়। এটি এমন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন, যা চিন্তাশীল, জবাবদিহিমূলক, নৈতিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে মুক্ত। এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার স্থান নয়, বরং বিতর্ক ও মতভেদের ক্ষেত্র। যেখানে গণমাধ্যম প্রচারণার যন্ত্র নয়, সত্য অনুসন্ধানের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে তরুণরা কেবল ভোটার নয়, বরং ধারণা সৃষ্টির সহ-নির্মাতা।প্রযুক্তি নাগরিকদের সহযোগী হতে পারে, কিন্তু যখন এটি নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা গণতন্ত্রের শত্রু হয়ে ওঠে। প্রশ্নহীন উন্নয়ন আধুনিক দাসত্বের এক ধরনের রূপ। মৌলিক প্রশ্ন হলো: আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে এক ক্লিকেই নাগরিকদের নীরব করে দেয়া যায়, নাকি এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে একটি মাত্র প্রশ্নই পুরো ব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে পারে? বাংলাদেশের বহু তরুণ এখনও রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছে, কারণ তাদের ˆশশব গড়ে উঠেছে ভয়, নজরদারি এবং প্রোপাগান্ডার মধ্যে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম তাদের সামনে এমন একটি আদর্শ উপস্থাপন করেছিল, যেখানে বিরোধিতা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রশ্ন তোলা মানেই ষড়যন্ত্র, আর সমালোচনা মানেই বিদেশি স্বার্থের সেবা করা। সুতরাং, সমালোচনামূলক চিন্তা বনাম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’—এটি এমন একটি নিয়ন্ত্রিত তথ্যব্যবস্থায় পরিণত হয়েছিল, যা বাহ্যিক আলোকচ্ছটায় উজ্জ্বল হলেও জ্ঞান ও সমালোচনামূলক চিন্তার অনুপস্থিতিতে অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। তবুও এখনও এমন তরুণ রয়েছে, যারা শুধু ডিজিটাল দক্ষতাই নয়, সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতাও অর্জন করছে। তারা জানে কীভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করতে হয়, সত্যতা যাচাই করতে হয় এবং নিজেদের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হয়। এই তরুণদের মাধ্যমেই একটি নতুন নাগরিক সমাজ গড়ে উঠতে পারে—যা শুধু কাগজে-কলমে নয়, বরং নৈতিক সাহস, বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে প্রযুক্তি বিচ্ছিন্নতার নয়, সংযোগের হাতিয়ার। যেখানে প্রতিটি মোবাইল ফোন শুধু সেলফি তোলার যন্ত্র নয়, বরং সত্যের সাক্ষী। এই অর্থে, ক্রিটিক্যাল বাংলাদেশ কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; এটি সাংস্কৃতিক ও নৈতিক পুনর্গঠনের একটি প্রকল্প। এটি মানুষকে রাষ্ট্রের বয়ানকে প্রশ্ন করতে, গণমাধ্যমের বার্তা যাচাই করতে এবং নিজেদের অবস্থান থেকে নতুন বয়ান নির্মাণ করতে আহ্বান জানায়—এমন বয়ান, যা প্রতিক্রিয়াশীল নয়; বরং মুক্তিকামী, ভবিষ্যতমুখী এবং সৃজনশীল।আমাদের যুব সমাজ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে একটি নতুন বাংলাদেশের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে, এবং সেই আশার কেন্দ্রে রয়েছে এই বিপ্লবী চিন্তার প্রজন্ম। যদি রাষ্ট্র গঠনের দায়িত্ব এই প্রজন্মের হাতে ন্যস্ত হয়, তবে উন্নয়ন হবে অংশগ্রহণমূলক, গণতন্ত্র প্রশ্ন করার সংস্কৃতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রযুক্তি স্বাধীনতার পথে পরিণত হবে। নতুন প্রজন্মের প্রতি একটাই আহ্বান: নীরব থেকো না। নীরবতা অন্যায়ের সঙ্গে এক ধরনের সহযোগিতা। প্রশ্ন করো—কারণ প্রশ্নহীন উন্নয়ন এক ধরনের নীরব মৃত্যু। আর সেই মৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা একমাত্র প্রশ্নেরই রয়েছে। কোনো পেশার প্রক...ত মর্যাদা তার সামাজিক ক্ষমতা বা প্রভাব দিয়ে নির্ধারিত হয় না; নির্ধারিত হয় তার দায়বদ্ধতা, আত্মশুদ্ধির সক্ষমতা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষমতা দিয়ে। অপমানের ভাষা সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তা কখনও সমস্যার সমাধান দেয় না। সমাধান আসে সংলাপ, আত্মসমালোচনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে। এই বিতর্কের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে কথায়, আচরণে এবং আত্মসমালোচনায়।(লেখকের নিজস্ব মত)[লেখক: সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি]
রাজনীতি
তরুণ সমাজের চিন্তার মাধ্যমে দেশ গঠন সম্ভব

শেয়ার করুন







