তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। গত দুই দিনের ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামে তিনটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

অন্যদিকে ফুলবাড়ী উপজেলার চর গোরকমন্ডল এলাকায় চারটি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এ দুই উপজেলার শতাধিক পরিবার এখন নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, রাজারহাটের রামহরি গ্রামে গত দুই দিনে তিস্তার তীব্র ভাঙনে ইদ্রিস আলী, শহিদুল ইসলাম ও আতাউল হকের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। একই সঙ্গে আব্দুর রশিদ, বছার উদ্দিন, আব্দুর ছালাম, রব্বানী ও আব্দুল মালেকসহ অন্তত ৪০টি বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ভাঙনের মুখে রয়েছে।

অন্যদিকে ফুলবাড়ীর চর গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর ভাঙনে গত এক সপ্তাহে চারটি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। এছাড়াও বর্তমানে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার এবং ব্রহ্মপুত্রের নিম্নাঞ্চলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এতে কু‌ড়িগ্রা‌মে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ইদ্রিস আলী, শহিদুল ইসলাম ও আতাউল হক বলেন, ‘চোখের সামনে বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজারও কোনো জায়গা নেই।’

তিস্তা-ধরলার ভয়াবহ রূপ, নিঃস্ব হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ

চর গোরকমন্ডলের দিনমজুর মজনু সরকার বলেন, ‘জীবনে পাঁচ-ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি। শেষ সম্বল বসতভিটাটুকুও এখন নদীগর্ভে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

গৃহবধূ চাঁনবানু বেগম বলেন, ‘দিন-রাত ভাঙনের আতঙ্কে কাটছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

রামহ‌রি গ্রা‌মের বাসিন্দা জাহেরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি আর কাজের ধীরগতিতে আমরা আজ নিঃস্ব। লেবার সর্দারের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং সম্পন্ন না হলে বরাদ্দের টাকাও অপচয় হবে, আর ভোগান্তি বাড়বে আমাদের।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘গত এক বছরে নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙনে আরও শতাধিক পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি করেন।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলায় তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের ৩৬টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। চর গোরকমন্ডল এলাকায় ভাঙনরোধে দুই হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রাজারহাটের রামহরি গ্রামে ভাঙন প্রতিরোধে ছয় হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

রোকনুজ্জামান মানু/এফএ/এএসএম