টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা নদীর পানি। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার সমান অবস্থানে থাকলেও পরবর্তীতে আবারও তা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর বা আশপাশে অবস্থান করছে।
এর আগে গত ২৩ জুন একবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে উঠলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে এবার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এরই মধ্যে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। রাতের মধ্যে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে অনেকে বসতবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। চরাঞ্চলে তেমন আবাদ না থাকলেও মৎস্য চাষিদের পুকুরের মাছ পানির সঙ্গে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় তা ১৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং বিকেল ৩টায় ১২ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। তবে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পাটগ্রামের গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী ও নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল।
স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, কাল রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে। এবার বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছি, তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি।
গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা তানজিলা আক্তার বলেন, গত রাতেই আমাদের বাড়িতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। টানা বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্টে দিন কাটছে। তিস্তা আমাদের শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা দেশে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে থাকতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পাশাপাশি পানি কমে যাওয়ার পর নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ডান তীর বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
মহসীন ইসলাম শাওন/এফএ/জেআইএম








