২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় করার জন্য রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এসময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা।
তার অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম এবং প্রসিকিউশন দলের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু মামলার বিচার ও নিষ্পত্তি করেছে।
তার ভাষায়, ট্রাইব্যুনালে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার এবং তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বিচার দ্রুত গতিতে আইন অনুযায়ী এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ায় এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
তিনি আরও বলেন, যিনি এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তিনিও কিন্তু এর আগে এই ট্রাইব্যুনালের মামলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং কারও কারও ইন্ধনে ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও বিষয়টি উত্থাপন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন।
রিট আবেদনে আইনটির কয়েকটি নির্দিষ্ট বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থি। সেই কারণেই এসব বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা বিচারিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফএইচ/এমআইএইচএস








