প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি জমে যায় টুঙ্গিপাড়ার বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। এতে ব্যাহত হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এবার মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে হাঁটুসমান পানি জমেছে। ফলে চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে পাঠদান। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির ৩৬০ শিক্ষার্থী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার একতলা ভবনেই ৩৬০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলে। এর মধ্যে নূরানী বিভাগে রয়েছে প্রায় ২০০ শিশু শিক্ষার্থী। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আবাসিকভাবে পড়াশোনা করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কয়েক দিন বৃষ্টি হলেই মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নূরানী বিভাগ সবার আগে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানা ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। আর্থিক সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাঠদান ব্যাহত হয়। তিনি এ সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও আমাদের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ পানিতে ভরে গেছে। তাই শিক্ষকেরা ক্লাস নিতে পারছেন না, আমরাও খেলাধুলা করতে পারছি না।’
মাদ্রাসার সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। জমে থাকা পানি বের করার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। মাদ্রাসা ও এতিমখানায় জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে পানি না জমে, সে জন্য স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








