মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর এক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিষয়টি জানাজানি হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামকে শোকজ করেছেন।

অভিযোগকারী খুরশিদা বেগম মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রশিদের মেয়ে। তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে খুরশিদা বেগম উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের উত্তর পাশে খাট পেতে বসবাস করছিলেন। সেখানে নিরাপত্তা দেওয়াল নির্মাণের দাবিতে তিনি গত ১০ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এসময় তিনি এক লাখ টাকা ইউএনওর টেবিলে রেখে চলে যান। ইউএনও বিষয়টি বুঝিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও উপস্থিত ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামকে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন শেখ ও তুষার আহমেদ বলেন, আমরা ওই নারীকে নিয়ে ইউএনও অফিসে গিয়েছিলাম। তিনি টাকা রেখে চলে গেলে ইউএনও মহোদয় জাহিদুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম মেম্বারকে টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই নারী টাকা ফেরত পাননি।

ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাহিদ ভাইয়ের উপস্থিতিতেই আমি সেদিন টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিনই ওই নারীকে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি বলছেন টাকা পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ১০ জুন একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী আমার কার্যালয়ে এসে এক লাখ টাকা রেখে চলে যান। আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামকে দ্রুত টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দিই। পরে জানতে পারি, তিনি টাকা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় দুজনকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলাসহ সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এফএ/এএসএম