এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা কখনো কখনো নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে পৌঁছান। যানজট কিংবা পারিবারিক সমস্যার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর কোনোভাবেই কেন্দ্রে প্রবেশ নয়- এমন নিয়মের কারণে শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে ফেলেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেন ও সচেতনমহল শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নানা সমালোচনা করেন। সমালোচনার মুখে অনেক সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কোনো শিক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ কিংবা বিশেষ ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায়।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। এ পরীক্ষা সামনে রেখে এবার কেন্দ্রসচিব ও স্থানীয় প্রশাসনকে পরীক্ষার্থীদের প্রতি নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলে তা নমনীয়ভাবে দেখার নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রসচিব ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেখুন, একজন পরীক্ষার্থী কোনো কারণে বা দুর্ঘটনায় হয়তো সময়মতো কেন্দ্রে যেতে না পারলো না। সেটা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন যদি ইচ্ছা করে এবং তার কারণকে যদি যৌক্তিক মনে করে; তাহলে তাকে একটু স্পেস দিয়ে পরীক্ষাটা নিতে পারে। এক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থানের নির্দেশনা আমাদের রয়েছে।’
আরও পড়ুন
ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান / কোনো এলাকায় দুর্যোগ হলে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথমদিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
প্রথমদিনে সব শিক্ষা বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ পরীক্ষার্থী। সারাদেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন তিন লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুরে ২১২টি কেন্দ্রে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন ও যশোর বোর্ডে ২৪০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এক লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন।
সেই সঙ্গে চট্টগ্রামের ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, সিলেটের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, কুমিল্লার ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশালের ১৪২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর সারাদেশে ৪৬১টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন।
এএএইচ/একিউএফ








