ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান। তামিল সিনেমার পাশাপাশি তেলুগু, মালয়ালম, হিন্দি, কন্নড় এমনকি বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রেও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অভিনয়শৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তবে একের পর এক সফল হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করলেও বলিউডে স্থায়ীভাবে ক্যারিয়ার গড়েননি এই অভিনেতা। কেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা নিজেই জানিয়েছিলেন এক সাক্ষাৎকারে।

কমল হাসানের হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৭৪ সালে ‘আইনা’ সিনেমার মাধ্যমে। যদিও সেটি ছিল একটি তামিল সিনেমার হিন্দি সংস্করণ এবং সেখানে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

বলিউডে তার প্রকৃত পরিচিতি আসে ‘এক দুজে কে লিয়ে’ সিনেমার মাধ্যমে। রতি অগ্নিহোত্রীর বিপরীতে অভিনীত সিনেমাটি মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শক-দুই মহলেই প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি বক্স অফিসেও দারুণ সাফল্য পায়। এই সিনেমাই তাকে রাতারাতি বলিউডের আলোচিত তারকায় পরিণত করে।

এরপর ‘সনম তেরি কসম’, ‘ইয়ে তো কমাল হো গয়া’, ‘জরা সি জিন্দেগি’ এবং ‘সদমা’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন কমল। বিশেষ করে শ্রীদেবীর সঙ্গে ‘সদমা’ সিনেমাটি আজও বলিউডের অন্যতম ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এত সাফল্যের পরও কেনো বলিউডে স্থায়ী হলেন না-এ প্রশ্নের উত্তর দেন ২০১৭ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।

কমল বলেন, ‘সেই সময়টা ছিল ভিন্ন। হিন্দি ছবির তারকাদের তুলনায় আমি অনেক সাধারণ জীবনযাপন করতাম। নিজের কাপড় নিজেকেই ধুতে হতো। বলিউডের অভিনেতারা তখন একসঙ্গে ছয়টি পর্যন্ত সিনেমায় কাজ করতেন। সেই জীবনধারা আমার ভালো লাগত না। এটাও একটি বড় কারণ।’

শুধু জীবনযাত্রার পার্থক্যই নয়, বলিউডের তৎকালীন পরিবেশও তাকে আকৃষ্ট করেনি বলে জানান এই অভিনেতা।

তার ভাষায়, ‘তখন বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব এবং কালো টাকার ব্যবহার ছিল। আমি সেই পরিবেশের অংশ হতে চাইনি। শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কালো টাকার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখব না। সাধারণভাবে জীবন কাটিয়েছি, সাধারণ গাড়িতে চলাফেরা করেছি-এতেই আমি সন্তুষ্ট ছিলাম।’

আরও পড়ুন

বিজয়কে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা না জানানোর গুঞ্জনে মুখ খুললেন রজনীকান্ত

 

সম্প্রতি মণি রত্নম পরিচালিত ‘ঠগ লাইফ’ সিনেমায় দেখা গেছে কমল হাসানকে। তবে ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। সমালোচকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

এমএমএফ/এএসএম