মরক্কোর বিপক্ষে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স দেখার পর খোদ ব্রাজিলের সমর্থকরাই শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল, এই দলটা ঠিক কতদূর যাবে! যদিও পরের দুই ম্যাচে হাইতি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে সেলেসাওরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ ৩২-এ পা রেখেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

এখন নকআউটে প্রথম বাধা এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। এই বাধা পার হতে পারলে বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত যেতে বেশ কঠিন পথই পাড়ি দিতে হবে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের। ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন দেখতে হলে সেলেসাওদের সামনে অপেক্ষা করছে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা।

জাপান দিয়ে শুরু হওয়া এই পরীক্ষার সবগুলো ধাপ পাস করে সামনে গেলে একে একে আসতে পারে আরলিং হালান্ডের নরওয়ে, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড এবং সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা।

গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠা ব্রাজিল রাউন্ড অব-৩২-এ মুখোমুখি হচ্ছে জাপানের। আগামী ২৯ জুন হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

জাপানকে হারাতে পারলে শেষ ষোলোতে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ। সেখানে ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। নরওয়ে যদি রাউন্ড অব-৩২ তে উঠতে পারে, তাহলে ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পারেন আরলিং হালান্ড বনাম ব্রাজিল রক্ষণভাগের জমজমাট লড়াই। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হালান্ড ইতোমধ্যেই নিজের গোল করার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

শেষ আটে উঠতে পারলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ আরও বৈচিত্র্যময়। ইংল্যান্ড, মেক্সিকো, ইকুয়েডর কিংবা ডিআর কঙ্গোর যে কোনো একটি দলের বিপক্ষে খেলতে হতে পারে সেলেসাওদের। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হলেও নকআউট ফুটবলে চমকের সুযোগ সবসময়ই থাকে।

তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেমিফাইনালকে ঘিরে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সেখানে হতে পারে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিক্ষিত লড়াই- ব্রাজিল বনাম লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। অবশ্য আর্জেন্টিনার আগে নিজেদের পথ পাড়ি দিতে হবে। সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, কেপ ভার্দে, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, সুইজারল্যান্ড, আলজেরিয়া, কলম্বিয়া ও ঘানা।

অন্যদিকে ফাইনালে উঠতে পারলে আরও এক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ব্রাজিলের। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় আছে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র, ক্রোয়েশিয়া, সুইডেন, প্যারাগুয়ে, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা কিংবা সেনেগাল।

সব মিলিয়ে ব্রাজিলের পথ মোটেও সহজ নয়। জাপানকে হারানোর পরই সামনে অপেক্ষা করতে পারে হালান্ডের নরওয়ে। এরপর সম্ভাব্য ইংল্যান্ড এবং সেমিফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষ। অর্থাৎ, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে হলে ব্রাজিলকে টানা কয়েকটি বড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সৌন্দর্যই এখানেই। এক ম্যাচের ভুলেই শেষ হয়ে যেতে পারে সব স্বপ্ন, আবার একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র। সেই সম্ভাবনার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ দিয়েই।

আইএইচএস/