ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের রাশ পুতিন সহজেই টানছেন না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের সঙ্গে সব ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনাও প্রত্যাখ্যান করছেন।
ক্রেমলিন সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেনের সাম্প্রতিক বড় আকারের ড্রোন হামলাকে ‘যুক্তি’ হিসেবে ধরে নিয়ে দেশটিতে হামলা চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। সামনের মাসগুলোতে রাশিয়ার আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
তবে, বরাবরের মতোই যেন বাস্তবতার বিপরীত কথা বলতে পছন্দ করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যেমন তিনি অনেকদিন ধরে ভুল তথ্য দিয়ে এসেছেন তেমনি অসংলগ্ন মন্তব্য করেছেন রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতেও। গত সোমবার তিনি বলেন, পুতিন এই যুদ্ধ শেষ করতে চান এবং চুক্তি সম্পন্নের বিষয়টি মানুষের ধারণার চেয়ে দ্রুতগতিতে হচ্ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাতিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আলাদা আলাদা ফোনালাপও হয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনে জেলেনস্কিও বলেছেন, শান্তি আনতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউজ।
আরও পড়ুন
রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলন / বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারের নেতাদের আমন্ত্রণ জানালেন পুতিন
পুতিন সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস অঞ্চলের বাকি অংশ দখলের মূল লক্ষ্য অর্জনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। জুনেও জেলেনস্কির দেওয়া যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন পুতিন।
এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রয়টার্সকে বলেন, রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও এই বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে।
একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে জেলেনস্কির দপ্তর থেকেও। ইউক্রেনিয়ান প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছেন পুতিন। ইউরোপের অন্য কোনো দেশে আক্রমণের বিষয়টিও রাশিয়ার বিবেচনায় রয়েছে।
রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ্যেই এই যুদ্ধাভিযান সম্প্রসারণের আলোচনা করছেন। তবে, লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ জ্যাক ওয়াটলিং বলছেন, রাশিয়ানরা ন্যাটোর সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। তবে এই জোটকে বিভক্ত করার চেষ্টা চালাতে পারে তারা।
তিনি আরও বলেছেন, ন্যাটোর সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকিকে ব্যবহার করে ইউক্রেনে নিজের সামরিক অভিযান বিস্তৃতির ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন পুতিন।
এএমএ








