নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় অটোরিকশাচালক মুমিনুল মিয়াকে হত্যা ঘটনার প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর আজ শুক্রবার ভোরে মেঘনা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শাহিন মিয়া উপজেলার দড়িকান্দি এলাকার নসর আলমের ছেলে। আজ দুপুরে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত মুমিনুলের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে শাহিন মিয়াকে প্রধান আসামি করে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শাহিন মিয়া একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতেন।

গত ১৭ মে বিকেলে অটোরিকশাচালক মুমিনুল মিয়া তাঁর অটোরিকশা নিয়ে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে যান। এ সময় শাহিন মিয়া তাঁর কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। জবাবে মুমিনুল জানান, তিনি একদফা চাঁদা আগেই দিয়েছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কের একপর্যায়ে শাহিন মিয়া তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মুমিনুলকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে মুমিনুলের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ মে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর শাহিন মিয়া এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে মেঘনা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, চাঁদার দাবিতে অটোরিকশাচালক মুমিনুল মিয়াকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।