নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের ফলে ১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমানুল্লাহ মাহদী ওরফে সাগর হুজুরের পাশাপাশি তাঁর বড় ভাই মাইমন ওরফে মামুন মিয়াকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে মদন আমলি আদালতের সাধারণ শাখায় কোর্ট পরিদর্শকের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক আখতারুজ্জামান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আলোচিত এ ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আজ বিকেলে মাদ্রাসাশিক্ষক ও তাঁর বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতের জিআর (জেনারেল রেকর্ড) শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
নুরুল কবীর, সরকারি কৌঁসুলি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, নেত্রকোনাআমলি আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে মামলাটি নারী ও শিশু সুরক্ষা আদালতে চলে আসবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আশা করছি বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে নেত্রকোনা আদালত পুলিশ পরিদর্শক রিয়াদ মাহমুদ বলেন, কিছু কাজ সম্পন্ন করে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। তখন আদালত মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর দিন ধার্য করবেন।
মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছেদ্রুতই মামলাটির বিচারকার্য শুরু হবে জানিয়ে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমলি আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে মামলাটি নারী ও শিশু সুরক্ষা আদালতে চলে আসবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আশা করছি বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।’ তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসাশিক্ষক কর্তৃক শিশুটিকে ধর্ষণের পর তার গর্ভজাত নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। তাই নবজাতকের পিতৃত্বের পরিচয়ও চূড়ান্ত হয়েছে। আমরা আশাবাদী, আদালত এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।’
শিশুটির পরিবার ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহদী এলাকায় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা–বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। এর মধ্যে শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে তাঁর মা বাড়ি ফিরে আসেন। গত ১৮ এপ্রিল একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর পরিবারের কাছে শিশুটি সবকিছু খুলে বলে।
এ ঘটনার বিচার চাইতে শিশুটির মা অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের বাড়ি গেলে তাঁর বড় ভাই মাইমন গালমন্দ ও মারধর করে তাড়িয়ে দেন। পরে ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষক ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আদালত অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিলে ১৭ মে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে ২৯ জুলাই নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা নমুনায় নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোর অনলাইনে একাধিক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।








