নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ২০২৩-২৪ অর্থবছর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের যাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল। নতুন অর্থবছরের শুরুতে অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো কোথায় দাঁড়িয়ে, সেটা নিয়েই এ আয়োজন।

সাময়িক হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে

২০২১–২২ অর্থ বছর থেকে ২০২৪–২৫ অর্থ বছর পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তবে ২০২৫–২৬ অর্থ বছরের সাময়িক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ‍্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ ২০২৪–২৫ অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

গড় মূল্যস্ফীতি কমেছে

গত চার অর্থ বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৫–২৬ অর্থ বছরের সমায়িক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, কিন্তু গত দুই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের ওপরে। এই বাস্তবতায় ২০২৬–২৭ অর্থ বছরে সরকার মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায়।

পণ্য আমদানি কমেছে

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই–মে) ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই শতাংশ কম। তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি ডলারের পণ্য।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, গত জুলাইয়ে ৪৭৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তারপর জানুয়ারি, এপ্রিল ও মে মাসে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বাকি মাসগুলোয় এই পরিমাণ কমে যায়। এসব মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

প্রবাসী আয় বেড়েছে

দুই বছর আগে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে হঠাৎ করে প্রবাসী আয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। তাতে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংক মাধ্যমে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় প্রায় ২৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত প্রতি মাসেই ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এতে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত ৩৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন (৩ হাজার ৫২০ কোটি) ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে যা বেশি। এই আয় গত অর্থবছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।