চোটের শঙ্কা কাটিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নেন নেইমার। কিন্তু শেষ ষোলোতে সেলেসাও ও নেইমারের বিদায়টা হয়েছে চোখের জলে। দুটি ম্যাচ বদলি হিসেবে নেমে খেলেছেন মাত্র ৫৮ মিনিট। নরওয়ের বিপক্ষে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ে অবসরের ঘোষণা দেন নেইমার। এরপরও নেইমারকে ২০৩০ বিশকাপে হলুদ জার্সিতে দেখতে চান ব্রাজিলকে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জেতানো কোচ রোজারিও মিকালে।
কার্লো আনচেলত্তির সমালোচনা করেন বিশ্বকাপে নেইমারকে ব্যবহারের কৌশল নিয়ে। তার মতে, লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা মোহাম্মদ সালাহর মতোই নেইমারের জন্যও আলাদা পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল।
আমেরিকা-এমজি ও লন্ড্রিনার ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে মিকালে বলেন, চোট নিয়েই বিশ্বকাপে যাওয়া নেইমারকে খুব কম সময় খেলানো হয়েছে, যা তাকে বিস্মিত করেছে।
স্কটল্যান্ড ও নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামেন নেইমার দ্বিতীয়ার্ধে। অতিরিক্ত সময়সহ সবমিলিয়ে খেলেন ৫৮ মিনিট। শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও তা যথেষ্ট ছিল না দলের বিদায় ঠেকাতে। নেইমারকে নিয়ে মিকালে বলেন, ‘আমার কাছে নেইমারই ব্রাজিলের সেরা ফুটবলার। আনচেলত্তি সম্পর্কে মন্তব্য করার আমি কে? তবে নেইমারকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা উচিত ছিল, যেমনটা মেসি, রোনালদো কিংবা সালাহকে করা হয়। মিশরে কাজ করার সময় দেখেছি, সালাহর সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনতে পুরো একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।’
নেইমারের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল সে শতভাগ ফিট ছিল কি না। কিন্তু এমন তারকা ফুটবলারের উপস্থিতিই দলের জন্য আলাদা প্রভাব তৈরি করে। আমি কখনোই নেইমারকে ছেড়ে দিতাম না।’
মিকালে আরও জানান, তিনি এখনও চান নেইমার অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে ২০৩০ বিশ্বকাপের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় দলে ফিরুক। তিনি বলেন, ‘আমি নেইমারকে মাঠে দেখতে চাই। নেইমার খেললে আমি টিকিট কেটে খেলা দেখতে যাব। সে ব্রাজিলের জন্য অনস্বীকার্য।’
তবে নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগঘন মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান নেইমার। তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, বারবার চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার জাতীয় দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো। সব শেষ।’
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর এখন ক্লাব ফুটবল ও চোটমুক্ত থাকার দিকেই মনোযোগ দেবেন ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন দল গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে আনচেলত্তির সামনে।
আইএন







