ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ইস্যু করা ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম। পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত।
জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি) ও ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের মধ্যে অসংগতি দেখতে পান। পরে যাচাই-বাছাইয়ে ২৬টি চেকের অঙ্ক ও টাকার বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা তোলার তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা যুক্ত করে চেকের মূল্য বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানের অংশও পরিবর্তন করা হতো। তবে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় হিসাব পর্যালোচনার সময় জালিয়াতিটি ধরা পড়ে।
সূত্র জানায়, গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ মার্চ এভাবে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। মার্চে পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে বদলি হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য মেলেনি।
গত সোমবার পার্থ সারথী পাল, মো. ফিরোজ ও নূর ইসলামকে কার্যালয়ে ডেকে এনে ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন ইউএনও। পরে উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম এবং সদ্য বিদায়ী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, চেক জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন। হিসাব-সংক্রান্ত নথি, সংশ্লিষ্ট চেক ও ব্যাংকের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








