তিন দিনের উত্তেজনা, লড়াই আর হাজারো তরুণের উচ্ছ্বাস শেষে গত মঙ্গলবার রাতে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে পর্দা নামল ‘আমা কফি ক্যাম্পাস ফুটসাল ২০২৬’-এর। গ্র্যান্ড ফিনালেতে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

তবে এই আসরের সবচেয়ে বড় অর্জন কেবল চ্যাম্পিয়নের ট্রফিতে সীমাবদ্ধ নয়; ঢাকার ৩২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে একই মঞ্চে নিয়ে আসাটাই ছিল এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ভিন্ন ক্যাম্পাস, ভিন্ন জার্সি; কিন্তু খেলার প্রতি ভালোবাসা আর দলগত স্পিরিট ছিল একই সুতোয় বাঁধা।

আমা কফির এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুধু একটি ফুটসাল টুর্নামেন্ট নয়; বরং এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা, স্পোর্টসম্যানশিপ ও স্বপ্নকে একসঙ্গে উদ্‌যাপন করার সুযোগ পেয়েছে।

গত রোববার থেকে শুরু হওয়া নকআউট পর্বের ১৬টি ম্যাচে প্রতিটি দল যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে, স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয়েছিল এক অন্য রকম আবহ। এই আয়োজন সফল করতে এবং ম্যাচ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

আমা কফি ক্যাম্পাস ফুটসাল ২০২৬-এর শিরোপা জিতেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়াম, ৩০ জুন

ফাইনাল ম্যাচটি জিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় স্টেডিয়ামের বাইরে ও দেশজুড়ে অসংখ্য মানুষ এই উৎসবের ভাগীদার হতে পেরেছে। চ্যাম্পিয়ন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পেয়েছে পাঁচ লাখ টাকা, রানার্সআপ শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি পেয়েছে দুই লাখ টাকা। সেরা গোলরক্ষক, সর্বোচ্চ গোলদাতা আর সেরা খেলোয়াড়—তিনটি বিশেষ স্বীকৃতিও তুলে দেওয়া হয় খেলোয়াড়দের হাতে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবুল খায়ের গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মামুন এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ফাহাদ করিমসহ বাফুফের পদস্থ কর্মকর্তারা। তাঁদের উপস্থিতি এই আন্তবিশ্ববিদ্যালয় আসরকে দিয়েছে বাড়তি মাত্রা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি করেছিল এক অন্য রকম আবহ


ফাইনালের আগে আলোক প্রদর্শনী, ফ্ল্যাশ মব আর লাইভ সংগীতের মধ্য দিয়ে পুরো স্টেডিয়াম পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত উৎসবে। ক্যাম্পাস ট্যুর, জার্সি রিভিল, আর ট্রফি ট্যুর দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আমা কফির উদ্যোগে সেই যাত্রা পরিপূর্ণতা পেয়েছে।

৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়, শত শত খেলোয়াড় আর হাজারো সমর্থককে একই ছাদের নিচে এনে আমা কফি ক্যাম্পাস ফুটসাল প্রমাণ করল, তরুণেরা শুধু স্বপ্ন দেখে না, সুযোগ পেলে সেটা সত্যি করেও দেখান।