বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় একটি ড্যানিশ বোট এবং ওই বোটে থাকা শ্রীলঙ্কান দুই জেলেকে উদ্ধার করেছে কক্সবাজারের মহেশখালীর জেলেরা। সম্পর্কে তারা বাবা-ছেলে।
শনিবার (২৫ জুলাই) তাদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।
উদ্ধার ওই দুই জেলে মহেশখালীর কুতুবজোমের জিয়াউর রহমানের বাড়িতে আশ্রয়ে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে উদ্ধার শ্রীলঙ্কান ড্যানিশ ফিশিং বোটটি তাজিয়াকাটা ঘাটে রাখা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কানরা হলেন- এস. এইচ. চামিন্দা (৫১) এবং তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (৩০)। তাদের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হাসপাতাল সড়কে বলে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার জিয়াউর রহমানের মালিকানাধীন একটি ফিশিং বোট সাগর থেকে মাছ ধরে ফিরছিল। ফেরার পথে জিয়ার বোটের জেলেরা সাগরের গুলিরধার এলাকায় ভাসমান একটি ড্যানিশ বোট দেখতে পায়। মহেশখালীর বোটে থাকা জেলেরা ধারণা করছিলেন ভাসমান বোটটি ইঞ্জিন বিকল হতে পারে। কাছে গিয়ে সেই ধারণার সত্যতা মিলে এবং বোটে দেখেন অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় দুজন পড়ে আছেন। তারা নিজেদের শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং বাবা-ছেলে বলে পরিচয় দেয়। জিয়ার বোটের লোকজন ভাসমান বোটের জেলেদের উদ্ধার করে নিজেদের বোটে তুলে নেন।
আরও পড়ুন
তারা চাইছে পাঁচ মাসেই সরকার পরিবর্তন করতে: প্রতিমন্ত্রী অমিত
বোট মালিক জিয়াউর রহমান জানান, উদ্ধারের পর তাদের খাবার দেওয়া হয়। তাদের ভাষ্যমতে, তারা ৩৬ দিন সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিলেন। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকায় তাদের রসদ শেষ হয়ে যায়। খাবার না থাকায় বড় মাছ ধরে সেটি কাঁচা খেয়েই তারা বেঁচে ছিলেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের মধ্যেও এভাবেই তারা জীবন রক্ষা চেষ্টা করেন বলে দাবি তাদের।
জিয়া আরও জানান, কোস্ট গার্ড ও মহেশখালী থানা পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের বলা কথাগুলো যাচাই করছে পুলিশ। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও তারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া দাবি জানান তিনি।
মহেশখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া দুজনই শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং বাবা-ছেলে সেটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তারা কীভাবে সমুদ্রে ভাসছিলেন, সত্যিই ৩৬ দিন ধরে সাগরে ছিলেন কিনা এবং তাদের পরিচয়-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এনএইচআর








