যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘন করছে বলে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে ইরান। যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৪২টি লঙ্ঘনের বিবরণ দিয়ে চিঠি দিয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে, কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী, আগ্রাসনের শিকার নয়।

ইরানের দেওয়া অভিযোগে, ২০২৬ সালের ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা বলা হয়। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল কয়েকমাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কাঠামো তৈরি করা। চুক্তিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিধান ছিল।

নিরাপত্তা পরিষদে তেহরান দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াশিংটন এটিকে দুর্বল করতে শুরু করে। চিঠিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এর অঙ্গীকার পূরণে অব্যাহতভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং মেমোরেন্ডাম বাস্তবায়নকে সক্রিয় ও পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল করেছে।

ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও অব্যাহত লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করে বলেন, এগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করেছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে।

চিঠিতে যেসব বিষয় ইরান উল্লেখ করেছে তা হচ্ছে- ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে বারবার সামরিক হামলা, ইরানি তেল বিক্রির লাইসেন্স অবৈধভাবে প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত ইরানের ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ।

তেহরান জানিয়েছে, মেমোরেন্ডামের অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নির্ধারণের দায়িত্ব ইরানের ওপর দেওয়া হয়েছে।

ইরান বলছে, ওয়াশিংটন এই বিধান লঙ্ঘন করে মার্কিন সামরিক সুরক্ষায় একটি সমান্তরাল সমুদ্রপথ তৈরির কথা প্রচার করেছে। হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ইরানের ওপর স্পষ্ট হস্তক্ষেপ বলে চিঠিতে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে প্রণালিতে আবার অনিরাপত্তা ফিরে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল ব্যাহত হয়েছে।

ইরান চিঠিতে জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন বন্ধ হয়নি এবং বিষয়টি সমঝোতা চুক্তির অধীনে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চিঠিতে নথিভুক্ত মার্কিন লঙ্ঘনগুলোতে ১৮ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ঘটনার কালানুক্রমিক বিবরণ রয়েছে। এতে সামরিক আগ্রাসন, জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বলপ্রয়োগের হুমকি, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানি তেল রপ্তানি ও জব্দকৃত সম্পদের ওপর বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করছে এবং প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করবেন।

ইরানের চিঠিতে নিরাপত্তা পরিষদের পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের নিষ্ক্রিয়তা ওয়াশিংটনকে আরও উৎসাহিত করেছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

কেএম