শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় ৪৫ বছর পর মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে বিচারহীনতা ও ষড়যন্ত্রের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই ৪৫ বছর তিনি কোথায় ছিলেন? আন্তর্জাতিক বা দেশের ভেতরে কারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে?
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ ভবনে যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি প্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় যুবদল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আরও পড়ুন
জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মেজর মোজাফফর, ভারতে ছিলেন আত্মগোপনে
রিজভী বলেন, একই সময়ে কাদের সিদ্দিকীর প্রসঙ্গও আলোচনায় আসা উচিত। তার ভাষ্য, সে সময় কাদের সিদ্দিকী অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, তা আজ আলোচনার সময় এসেছে।
একইভাবে সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদদের ওপর পুলিশের সঙ্গে মিলে গুলি চালিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, সে বিষয়েও জবাব চাওয়ার দাবি জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী হয়ে দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসান এবং শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ প্রমাণ করে, কারও শ্রম বা আত্মদান কখনো বৃথা যায় না।
তিনি বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ন্যায়ের শূন্যতা একদিন নানা কিছু দিয়ে ভরিয়ে দেবে।’
আরও পড়ুন
বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রহরী: রিজভী
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পরিসর বাড়াচ্ছে এবং কৃষক কার্ড দিচ্ছে। এক-দুই বছর পর এসব উদ্যোগের সুফল মানুষের হাতে পৌঁছালে জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষের আত্মদান সার্থক হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িঘর ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া প্রবাসে নানা নিপীড়ন সহ্য করে দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে একটি ‘বড় ও অস্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতা-কর্মীদের তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান রিজভী। বিগত প্রহসনের ‘আমি এবং ডামি’ নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া হতাশা কাটিয়ে এই বিজয়কে তিনি বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেন।
আরও পড়ুন
ষড়যন্ত্র হচ্ছে, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—এই বিপ্লবের সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের অটুট নেতৃত্বের কারণেই আজ গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও দল কোনো আপসকামিতা বা গোপন আঁতাত করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।
কেএইচ/এমএমকে








