‘৫ আগস্টের পর আমি একদিনের জন্যও বাসার বাইরে থাকিনি। নিয়মিত বাসা থেকে অফিসে গেছি, আবার অফিস শেষে বাসায় ফিরেছি। তারপরও আমাকে শুধু হয়রানি করার জন্যই গ্রেফতার করা হয়েছে।’

রোববার (২৮ জুন) আদালতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার শুনানিতে এমন দাবি করেন জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদ।

এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাশকতার একটি মামলায় রিমান্ড শুনানির সময় নূর মোহাম্মদ বলেন, কোনো অপরাধে জড়িত না থেকেও আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এ এমপি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমি একদিনের জন্যও বাসার বাইরে থাকিনি। নিয়মিত বাসা থেকে অফিসে গেছি, আবার অফিস শেষে বাসায় ফিরেছি। আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অনিয়ম বা অপরাধের অভিযোগ সত্য হতো, তাহলে আমি প্রকাশ্যে এভাবে চলাফেরা করতাম না। আমাকে শুধু হয়রানি করার জন্যই গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গ্রেফতার

শুনানিতে তার আইনজীবী মোহাম্মদ কামরুল হোসেন বলেন, মামলার ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয়। তাই রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

তবে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করলে শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সোহেল সরকার তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

এমডিএএ/এমকেআর