বরিশালে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর অতিরিক্ত চিফ ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরীয়াতুল্লাহ এ আদেশ দেন। এদিকে লিটু বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
২৭ জুন বরিশাল নগরীর অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির এমডি আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে ৭০ লাখ টাকার একটিসহ দুটি চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে সই করে নেন লিটু। এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী নানা আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় রোববার লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর লিটু অভিযোগ করেন, ওই হাউজিং প্রতিষ্ঠানের অংশীদার তিনিও। তবে তার বিনিয়োগের টাকা আব্দুল আজিজ আত্মসাৎ করেছেন। ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে ১৬ বছর ধরে তিনি ঘুরাচ্ছিলেন। সেই টাকা উদ্ধারের জন্য এমনটা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন লিটুর স্ত্রী উম্মে হাবিবা।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, ২০১৪ কয়েকজন অংশীদার মিলে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। পরে পরিচালকদের দ্বন্দ্বে টাকা ও সম্পদ ভাগের সিদ্ধান্ত হয়। পরে এক পরিচালকের মামলায় বিষয়টি আটকে গেলে লিটুর টাকা ও সম্পদ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এদিকে লিটুর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তাকে যুবদল নেতা হিসাবে অভিযোগ করা হচ্ছিল। তবে রোববারই বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, লিটুসহ অন্য অভিযুক্তরা যুবদল বা বিএনপির কেউ নন।
যদিও লিটুকে বিএনপির এমপিসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে। তিনি দলটির কর্মসূচিতে সরব ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে দলে তার কোনো পদ নেই। লিটু বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান পিন্টুর ছোট ভাই। এছাড়া তিনি প্রবাসে থাকাকালে বিএনপির সৌদি আরব শাখার সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এ মামলায় গ্রেফতার আবুল কালাম আজাদ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ বরিশাল মহানগরের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি।
যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচএম তসলিম উদ্দিন ওই দুই আসামির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযুক্তরা কেউ যুবদল বা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।








