বয়সটা কম না, ৩৯! কিন্তু মাঠে নামলেই যেন নতুন করে ইতিহাস লেখেন লিওনেল মেসি। জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেই বাঁ-পায়ের নিখুঁত ফ্রি-কিকে গোল করে গড়লেন বিশ্বকাপের নতুন এক বিশ্বরেকর্ড।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা সাত ম্যাচে গোল করার কীর্তি এখন মেসির দখলে। এর মধ্য দিয়ে ভেঙে গেল প্রায় ৫৬ বছর ধরে অক্ষত থাকা রেকর্ড। এর আগে টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার নজির ছিল ফ্রান্সের জাস্ট ফোঁতেন ও ব্রাজিলের কিংবদন্তি জার্জিনহোর।
মেসির এই রেকর্ডের শুরু ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও থামেননি তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের পর জর্ডানের বিপক্ষেও জালের দেখা পেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ফলে টানা সাত ম্যাচে গোলের অনন্য নজির গড়ে নিজের নাম লিখলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের শীর্ষে।
এ নিয়ে বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৯-এ। আগের ম্যাচেই জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন তিনি। এবার সেই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করলেন। চলতি আসরে তিন ম্যাচে তার গোল এখন ছয়টি, যা তাকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও সবার ওপরে রেখেছে।
জর্ডানের বিপক্ষে এই গোলে আরেকটি রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার গোল এখন ছয়টি, যা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রিভেলিনোর পাঁচ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও এখন তার দখলে। আর ১৯ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার মোট গোল-অবদান দাঁড়িয়েছে ২৭, যা এই আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ম্যাচের আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছিলেন, হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার কারণে মেসিকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বেঞ্চে বসেই ম্যাচ শুরু করেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামতেই বদলে যায় গ্যালারির আবহ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে জর্ডানের জালে বল জড়িয়ে আবারও মনে করিয়ে দেন, বয়স শুধু একটি সংখ্যা।
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এখন নকআউট পর্বের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা। আগামী ৪ জুলাই শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জর্ডানের বিপক্ষে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়া মেসি নকআউটে নিজের ইতিহাসকে আর কত দূর নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।
একটা ছোট্ট এডিটোরিয়াল নোট: মূল কপিতে ‘জর্জিনহো’ লেখা আছে। তবে ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যে কিংবদন্তির কথা বলা হচ্ছে, তার প্রচলিত নাম জাইরজিনহো। প্রকাশের আগে এই তথ্যটা একবার অফিসিয়াল সোর্সে মিলিয়ে নিস। এটা ঠিক থাকলে কপিটা আরও শক্ত হবে।








