বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে। এই বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।”
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাত থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং তা তুলনামূলক উচ্চমূল্যে কিনতে হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হলে তারা জ্বালানি আমদানি করতে পারে না। এতে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।”
তিনি বলেন, “আগের সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রভাব এখনো বিদ্যুৎ খাত বহন করছে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়ায় আর্থিক চাপ আরো বেড়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, “আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।”
বিদ্যুৎ খাতে কারিগরি তদারকি জোরদারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সম্প্রতি পিডিবির একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে প্রধান করে একটি কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে। দলটি দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিভিন্ন কারণে গ্রাহকের বিল বাড়তে পারে, যার মধ্যে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহারও একটি কারণ।” তবে, বিতরণ সংস্থার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দুর্নীতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বিদ্যুৎ খাতসংক্রান্ত অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন। এ বিষয়ে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের জন্যও মন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।








