নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম সরকারি হাসপাতাল জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া)। প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন এই হাসপাতালে। নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি আরও কয়েকটি জেলার রোগীরা এখানে এসে চিকিৎসা নেন। তবে হাসপাতালের সেবা নিয়ে বরাবরই অভিযোগ রয়েছে রোগীদের।

হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ বন্ধ রয়েছে প্রায় ছয় মাস ধরে। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বিভাগের একমাত্র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আলী আকবর খানের মৃত্যুর পর নতুন কাউকে পদায়ন না করায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাইরে থেকে নিজ খরচে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এতে করে রোগীদের বাড়তি খরচের পাশাপাশি ভোগান্তিরও শিকার হতে হচ্ছে।

দাঁতের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন শিক্ষক সাহানা জেসমিন। চিকিৎসক তাকে এক্স-রে দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে এক্স-রে না থাকায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বাইরে থেকে এক্স-রে করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন

থাকার কথা ৩৭১ জন চিকিৎসক, আছেন ২০ জন

সাহানা জেসমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘এক্স-রে করাতে এসে দেখলাম বিভাগ বন্ধ। ডাক্তার বাইরে থেকে করিয়ে আনতে বললেন। পরে ৫০০ টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। এই অতিরিক্ত টাকা দেওয়া অনেকের জন্য কষ্টকর।’

থাইরয়েড সমস্যার চিকিৎসা নিতে আসা শম্পা আক্তার বলেন, ‘শরীরে অনেক ধরনের সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে পায়ের ব্যথাও আছে। হাসপাতালে পরীক্ষা করার সুযোগ থাকলে অনেক সুবিধা হতো।’

৬ মাস ধরে বন্ধ জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ, ভোগান্তি চরমে

রফিকুল ইসলাম নামের একজন তার আট বছরের নাতি সালমানকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার নাতি জ্বরে আক্রান্ত। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ডাক্তার ডেঙ্গুসহ কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছেন। কোথায় হয় জানি না, শুধু বাইরে থেকে করাতে বলেছেন।’

আরও পড়ুন

যেভাবে চলছে পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসা

হাসপাতাল সূত্র বলছে, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। সে হিসেবে মাসে প্রায় ৬০ হাজার রোগী বহির্বিভাগে এবং প্রায় তিন হাজার ৬০০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এত বিপুল সংখ্যক রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে বিভাগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্বাস্থ্যসেবার বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবার উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সেবার মান উন্নয়ন, জনবল সংকট নিরসন, পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দেন। এরপরও হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

৬ মাস ধরে বন্ধ জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ, ভোগান্তি চরমে

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাময়িকভাবে জেলার উপজেলা হাসপাতালগুলো থেকে সপ্তাহে দুদিন করে একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এনে সেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে দেশের প্রায় সব হাসপাতালেই জনবল সংকট থাকায় সেটি বাস্তবায়নও অনিশ্চিত।’

আরও পড়ুন

কুড়িগ্রাম হাসপাতাল / সব রোগের চিকিৎসা করেন সেকমো!

৬ মাস ধরে বন্ধ জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ, ভোগান্তি চরমে

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহম্মদ মুশিউর রহমান বলেন, ‘মেডিকেল টেকনোলজিস্টের মৃত্যুর কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি। তারা খুব দ্রুত একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।’

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর/এএসএম