প্রায় ২৫ বছর আগে গঠিত পুঠিয়া পৌরসভা এখনো নিজস্ব ভবন পায়নি। অথচ প্রায় ১৯ বছর আগে পৌরভবন নির্মাণের জন্য ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে ৫৮ লাখ টাকা সাবেক দুই মেয়র আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সাবেক দুই মেয়রের একজন যুবলীগের এবং অন্যজন বিএনপি নেতা। বর্তমান পৌর প্রশাসক পৌরভবন তহবিল খুঁজতে গিয়ে ভবন নির্মাণের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ পাঠিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি উপজেলা সদরের ১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে পুঠিয়া পৌরসভা গঠিত হয়। তখন জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ হাজার, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৬১০ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পৌরসভার কার্যক্রম চলছে ভাড়া করা ভবনে। এজন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় হওয়া ১৪টি পৌরসভার মধ্যে শুধু পুঠিয়া পৌরসভারই এখনো নিজস্ব ভবন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে পুঠিয়া পৌরভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ টাকা জনতা ব্যাংকের পুঠিয়া শাখায় ‘পুঠিয়া পৌরভবন তহবিল’ নামে পৃথক হিসাবে জমা হয়।
পুঠিয়া পৌরসভা গঠনের পর প্রশাসনিক জটিলতায় ১৫ বছর কোনো নির্বাচন হয়নি। ২০১৬ সালে প্রথম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন পৌর বিএনপি নেতা আসাদুল হক। তবে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে মর্মে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ হওয়ার পর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবিকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হয়। রবি পৌরভবন নির্মাণ তহবিল থেকে ৩৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে ২০২০ সালে দায়িত্ব ছাড়ার আগে ৬ লাখ টাকা ফেরত দেন।
পরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি নেতা আল মামুন খান। তিনি একই তহবিল থেকে ৩২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন এবং পরে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেন। বর্তমান তহবিলে জমা রয়েছে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৯ টাকা ৫০ পয়সা। পৌর প্রশাসকের অভিযোগ, কিছু টাকা ফেরত দিলেও দুই সাবেক মেয়র যুবলীগ নেতা রবি ও বিএনপি নেতা আল মামুন মোট ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পুঠিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র আসাদুল হকও একসময় তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছিলেন। কিন্তু এক বছরের মাথায় অডিট আপত্তি ওঠার পর সেই টাকা ফেরত দেন।
পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও পুঠিয়ার সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) শিবু দাস সুমিত বলেন, নথি ও ব্যাংক হিসাব অনুয়ায়ী সাবেক দুই মেয়র পৌরভবন নির্মাণ তহবিলের টাকা তুলে নিলেও তা ফেরত দেননি। বিষয়টি গুরুতর আর্থিক অনিয়ম। সংশ্লিষ্ট নথি সংযুক্ত করে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আল মামুন খান বলেন, পৌরভবন নির্মাণ তহবিলের অর্থ সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। তবে ব্যাংকের হিসাব বিবরণীতে তার টাকা উত্তলনের প্রমাণ রয়েছে বলে জানালে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। অপর সাবেক মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







