চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে ছয় সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনই ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক। একই সঙ্গে অফিস সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না থাকায় আরও দুজনের বিরুদ্ধে হয়েছে একই মামলা। এর মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদের ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে তাদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভাগীয় মামলা দায়ের হওয়া আট চিকিৎসকের মধ্যে ছয়জনের স্থানীয় বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তে তার প্রমাণও মিলেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) (শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম।

এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং অফিস সময়ে বেসরকারি সিটি হাসপাতালে কর্মরত থাকায় ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ডা. রাশেদকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না কেন তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

কয়েক দিন আগে জেলা হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে বদলি করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই সময়ে স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে তাদের বদলি করার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ। ওই সময় তিনি আরও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।