স্বপ্নপূরণের ক্ষেত্রে বয়স যে কোনো বাধা হতে পারে না, সেটা বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন অস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেতা অ্যান্থনি হপকিন্স। অভিনয় জগতের এই মহাতারকা এবার সংগীতের মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময়ের সাধনার মৌলিক ক্ল্যাসিক্যাল সুর নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত রেকর্ড লেবেল ডেক্কা ক্লাসিকসের সঙ্গে একটি মেগা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন অ্যান্থনি হপকিন্স, যার অধীনে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর প্রথম অফিশিয়াল রেকর্ডিং প্রজেক্ট ‘লাইফ ইজ আ ড্রিম’। আগামী ২১ আগস্ট বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে এই অ্যালবাম। আর এর প্রথম সিঙ্গেল ‘ব্র্যাকেন রোড’ প্রকাশ পেয়েছে গতকাল।
ডেক্কা ক্লাসিকস জানিয়েছে, সাউথ ওয়েলসের মারগামে কাটানো এই অভিনেতার শৈশবের স্মৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্র্যাকেন রোড সুরটি তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যালবামের অন্য ট্র্যাকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মাই ফাদারল্যান্ড’, যা ঐতিহ্যবাহী ওয়েলশ সুর দ্বারা অনুপ্রাণিত। এ ছাড়া বিভিন্ন সিনেমা, নিজের স্ত্রী ও ভাগনির জীবনের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েও বেশ কিছু সুর তৈরি করেছেন অ্যান্থনি হপকিন্স।
সংবাদমাধ্যম রোলিং স্টোন জানিয়েছে, লাইফ ইজ আ ড্রিম অ্যালবামের ট্র্যাকগুলো পরিচালনা করেছেন গুস্তাভো দুদামেল। আর হপকিন্সের তৈরি করা সুরগুলো লাইভ পরিবেশন করেছে লন্ডনের বিখ্যাত ফিলহারমোনিয়া অর্কেস্ট্রা। এই অ্যালবামে আরও যুক্ত আছেন পিয়ানোবাদক সের্হিও তিয়েম্পো, চেলোবাদক গ্রেগোরিও নিয়েতো, দ্য বাখ কয়্যার এবং উইনচেস্টার ক্যাথেড্রালের দ্য বয় কয়্যারিস্টার্স। পুরো অ্যালবামের রেকর্ডিং চলতি বছরের এপ্রিলে লন্ডনের ঐতিহাসিক অ্যালেক্সান্দ্রা প্যালেসে সম্পন্ন হয়েছে।
৮৮ বছর বয়সী এই অভিনেতার দীর্ঘদিনের সুপ্ত বাসনা পূর্ণ হতে যাচ্ছে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে। দর্শকেরা অ্যান্থনি হপকিন্সকে সিনেমার পর্দায় দাপুটে অভিনেতা হিসেবে চিনলেও, অভিনয় জগতে আসার অনেক আগে থেকে সংগীতই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। শৈশব থেকে তিনি নিয়মিত পিয়ানো বাজাতেন এবং নিজে সুর তৈরি করতেন। তিনি মূলত একজন স্বশিক্ষিত সুরকার। বিগত ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে জীবনের বিভিন্ন বাঁকে তাঁর তৈরি করা সেরা সুরগুলোই এবার এক সুতোয় গেঁথে এই অ্যালবামে রূপ দেওয়া হয়েছে।
অ্যালবামটির ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে অ্যান্থনি হপকিন্স বলেন, ‘সংগীত সব সময়ই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল। শৈশব থেকেই সুরের প্রতি আমার যে টান ছিল, তা আমি সারা জীবন নিজের ভেতরে লালন করেছি। এত বছর পর ডেক্কা ক্লাসিকস, গুস্তাভো দুদামেল এবং ফিলহারমোনিয়া অর্কেস্ট্রাকে সঙ্গে নিয়ে নিজের সৃষ্টিগুলো বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত।’
ডেক্কা ক্লাসিকসের প্রেসিডেন্ট লরা মঙ্কস জানিয়েছেন, হপকিন্সের সুরগুলোর মধ্যে এক অদ্ভুত গভীরতা ও সিনেমাটিক আবহ রয়েছে, যা শ্রোতাদের অন্য রকম মানসিক প্রশান্তি দেবে।








