কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্বশুরকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন হাবিবুল ইসলাম ওরফে ঠান্টু (৩২) নামে এক যুবক। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে মাদক থাকার ‘নিখুঁত’ তথ্য দেওয়াই কাল হলো তার জন্য। সোমবার (২৯ জুন) পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কুন্টিরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হাবিবুল একই উপজেলার মাঝিহাট গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুন্টিরচর গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ের সঙ্গে কয়েক বছর আগে হাবিবুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর হাবিবুল মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। স্ত্রী তাকে সংশোধনের অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক দিন আগে হাবিবুলকে তালাকের নোটিশ পাঠান তার স্ত্রী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন হাবিবুল।গত রোববার রাতে হাবিবুল চুপিচুপি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট রেখে আসেন। এরপর তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে জানান, তার শ্বশুরের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেনের বাড়ি থেকে ওই মাদক উদ্ধার করে।মিরপুর থানা-পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযানে গিয়ে মাদকের অবস্থান নিয়ে হাবিবুলের দেওয়া অতিরিক্ত নিখুঁত তথ্যে কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। একপর্যায়ে পুলিশ ফারুক হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে পারিবারিক বিরোধ ও তালাকের ঘটনা। পাশাপাশি এলাকাবাসী সাক্ষ্য দেন যে ফারুক হোসেন অত্যন্ত নিরীহ মানুষ এবং তিনি কখনো এসবের সঙ্গে যুক্ত নন।পরে পুলিশ হাবিবুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে শ্বশুরকে বিপদে ফেলতেই তিনি গোপনে মাদক রেখে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হাবিবুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। দুপুরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাজনীতি
৯৯৯-এ ফোন দিয়ে ফেঁসে গেলেন জামাতা

শেয়ার করুন







