ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির পেন্নাই স্টেশন থেকে গৌরীপুর বাজারের উপর দিয়ে চলে যাওয়া সড়কটি তিতাস ও হোমনা উপজেলা হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলার এই সড়কটিতে তুলনামূলকভাবে যানবাহনের চাপ বেশি। তবে গৌরীপুর বাজারের নিত্যদিনের যানজট দুর্বিষহ করে তুলেছে এ পথে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের।
জানা যায়, পেন্নাই-বাঞ্ছারামপুর সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাগামী হোমনা পরিবহন, কুমিল্লাগামী একতা ও রুপালী পরিবহনের প্রায় দুই শতাধিক বাস, দুই হাজার সিএনজি, দেড় হাজারেরও বেশি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রো ও পণ্যবাহী ছোটো-বড় গাড়িসহ ১০ থেকে ১৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে।
কখনো ঢাকা থেকে কখনো আবার বাঞ্ছারামপুর থেকে লম্বা পথ পেরিয়ে গৌরীপুর বাজারে আসতেই লাগাতার যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় দীর্ঘ সময়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পেন্নাই-বাঞ্ছারামপুর সড়কের গৌরীপুর বাজারটি কুমিল্লা জেলার অন্যতম বাণিজ্যিক নগরী। জল ও স্থল পথের যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারটিতে প্রতিদিন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, চাঁদপুরের মতলব উত্তর, দক্ষিণ ও কচুয়া এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি, মেঘনা, তিতাস, হোমনা, চান্দিনা উপজেলাসহ প্রায় ১০ উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ ভিড় করে।
এতে যানজটে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। অনেক সময় যানজট কয়েকঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ক্রেতা, বিক্রেতা, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, যাত্রী, রোগী ও পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে। আর এই যানজটের প্রধান কারণ হলো বাজারের ফুটপাতে গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট, সরকারি জায়গা দখল ও যত্রতত্র পার্কিং।
আরও পড়ুন
সোয়ারিঘাট-চকবাজার / কাদাপানি-ভাঙা সড়ক, বৃষ্টি থামলেও যেখানে শেষ হয় না দুর্ভোগ
সড়কটির গৌরীপুর থেকে তিতাসের বাতাকান্দি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও সড়কটির দড়িকান্দি, শিবপুর, বন্দরামপুর, কড়িকান্দি বাজার, গাজীপুর, কেশবপুরসহ বিভিন্নস্থানে ভাঙা এবং সড়কটির দুই পাশে দেবে গিয়ে উঁচু-নিচু ও বাঁকানো আকৃতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে হাজার হাজার যানবাহন। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
পেন্নাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নিরাপদ সড়ক চাই দাউদকান্দি শাখার মহিলা সম্পাদিকা মোসা. সেলিনা আক্তার বলেন, গৌরীপুর বাজার ও পেন্নাই স্টেশনের যানজটের কারণে যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোমলমতি শিশুরা ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারে না। সবসময় একটা ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। দ্রুত এর প্রতিকার প্রয়োজন।

হোমনা পৌরসভার দোয়ারিভাঙ্গা গ্রামের আলীনূর বলেন, মুরাদনগর ও কোম্পানীগঞ্জ থেকে যাত্রীরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। রাস্তাটি দুর্বল হয়ে গেছে। সড়কের তুলনায় গাড়ির চাপ বেশি। এটা প্রশস্ত করা দরকার।
বাতাকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী বাদল বলেন, সিএনজি ও অটোর কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে এই বাজারে।
গৌরীপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলী আশরাফ খান বলেন, ৪০ বছর ধরে ব্যবসা করছি। অবৈধ ফুটপাত, অদক্ষ অটো ও সিএনজি চালকের কারণে নিত্যদিনের যানজটে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের।
তিতাস উপজেলার বাসিন্দা ফরিদ উদ্দীন প্রধান বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাই। ঢাকা থেকে গৌরীপুর যেতে যত সময় লাগে, কখনো তার চেয়ে বেশি সময় লাগে বাজারটি পার হতে। এছাড়াও সড়কের তুলনায় যানবাহন বেশি।
নিউ একতা বাস চালক শহাপরান বলেন, হোমনা থেকে কুমিল্লা যেতে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট লাগে। যানজটে পড়লে তিন থেকে চার ঘণ্টা লেগে যায়।
গৌরীপুর মুক্তি মেডিকেল সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ডা: মোজাম্মেল হক ও ডেন্টাল চিকিৎসক ফারুক আহাম্মেদ বলেন, বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোগী আসে। যানজটে আটকে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
জনতা ব্যাংক গৌরীপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, প্রতিদিনের যানজটে জনজীবন অতিষ্ঠ, দেখার কেউ নেই। ছোট রাস্তায় যে পরিমাণ অটোরিক্সা চলে তা নজিরবিহীন।
দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রেদওয়ান ইসলাম বলেন, কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করেছি। বাজারটিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা ও ফুটপাতের তালিকা করা হচ্ছে। তারপর উচ্ছেদ করা হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এসজেডএইচ/জেআইএম








