সংবিধান সংস্কার পরিষদ না করে গতানুগতিক সংশোধনের পথে হাঁটার মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক প্রতারণার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলে মনে করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। আজ মঙ্গলবার দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের গতানুগতিক সংশোধন নয়, জুলাই অভ্যুত্থান এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষা দেশে মৌলিক সংবিধান সংস্কারের স্পষ্ট রায় দিয়েছে। অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধান সংস্কারের সেই পথ পরিত্যাগ করে গতানুগতিক সংশোধনীর দিকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করেছে বিএনপি সরকার।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি রাজনৈতিক প্রতারণার একটি নতুন ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা বলেন, ইতিপূর্বে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিভিন্ন অনিয়মের নজির থাকলেও, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের মতো জনগণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর এমন নজির আর ছিল না। সরকার এবার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার এবার তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর ক্ষেত্রেও এক নতুন নেতিবাচক মাত্রা যোগ করেছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ এখন সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন, এই সব প্রতিশ্রুতি নাকি তারা নির্বাচনে জিতে আসার জন্য কৌশল হিসেবে দিয়েছিলেন, বাস্তবায়ন করার জন্য দেননি। এই ধরনের দম্ভ এবং প্রতারণার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নামিয়ে আনবে, যার চূড়ান্ত প্রতিফল জাতি হিসেবে আমাদের স্থায়ী ও অপরিমেয় ক্ষয়ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারি দলের নেতারা এমন সব ভয়াবহ যুক্তি দিচ্ছেন, যা আখেরে বিদ্যমান সংসদের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে এবং পরাজিত মাফিয়াদের বৈধতার দাবিকে পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সরকারকে এই আত্মঘাতী প্রক্রিয়া থেকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ও গণভোটের ম্যান্ডেট এবং ১৮০ দিনের সময়সীমার বাধ্যবাধকতা মেনে অবিলম্বে একটি "সংবিধান সংস্কার পরিষদ" গঠন করার জোর দাবি জানিয়েছে।
অন্যথায়, দেশে যে কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বা আইনি সংকট তৈরি হলে, তার সমস্ত দায়-দায়িত্ব এই সরকারকেই বহন করতে হবে বলে জানিয়েছে দলটি।








