পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটা যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটা শুরু করেছিলেন মিকেল মেরিনো। সেদিন বদলি নেমে শেষ মুহূর্তের গোলে পর্তুগালকে বিদায় করে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন মেরিনো।
আজ একইভাবে শেষ মুহূর্তে বদলি নেমে গোল করে স্পেনকে সেমিফাইনালে নিয়ে গেছেন তিনি। মেরিনোর করা ৮৮ মিনিটের গোলেই শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। এর ফলে ১৬ বছর পর আরও সেমিফাইনালের টিকিট পেল দলটি। সেমিতে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।
লস অ্যাঞ্জেলেসে উপভোগ্য এক কোয়ার্টার ফাইনাল উপহার দিয়েছে দুই দল। তবে স্পেন ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। অপেক্ষাকৃত দাপুটে খেলেও জয়ের জন্য তাদের ধৈর্য ধরতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের বদলি গোলকিপার সেনে লামেন্সের একটি ভুলের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।
বেলজিয়ামকে ২–১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পেল স্পেনএদিন ম্যাচের ৭২ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া কোর্তোয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লামেন্স। এই সেই লামেন্সই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে করেছেন বড় ভুল, যা কাজে লাগিয়েছেন মেরিনো। বিষয়টি অবশ্য স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের জন্য নতুন কিছু নয়। আর্সেনালের হয়ে বারবার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করেছেন তিনি, এখন জাতীয় দলের হয়েও সেটাই করে চলেছেন। এই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ দিকে জয়সূচক গোল করলেন।
এর আগে শুরু থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল ম্যাচ। তবে সুযোগ পেলে বেলজিয়ামও চেষ্টা আক্রমণে ওঠার। তবে প্রথমে বাজিমাত করে স্পেনই। ৩০ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে দানি ওলমোর প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, ফিরতি শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফাবিয়ান রুইজ।
তবে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪১ মিনিটে এই গোল শোধ করে বেলজিয়াম। টিমোথি কাস্তানিয়ের দারুণ এক ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে জাল খুঁজে নেন চার্লস ডি কেটেলারার। এর ফলে বিশ্বকাপে টানা ৬০০ মিনিটেরও বেশি সময় গোল না খাওয়া স্পেন অবশেষে গোল হজম করল।
সমতা ফেরালেও ম্যাচে স্পেনের সঙ্গে গতি, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে পেরে ওঠেনি বেলজিয়াম। পাশাপাশি হুটহাট যেসব সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলোও শেষ পর্যন্ত কাজে লাগাতে পারেনি তারা। যার খেসারত দলটিকে দিতে হয়েছে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে এবং ম্যাচ হেরে।
স্পেনের কাছে হেরে বিদায়ের মধ্য দিয়ে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মেরও শেষ তিন প্রতিনিধিরও বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন থেমে গেল। ২০৩০ সালে ৩৭ বছর বয়সী রোমেলু লুকাকু, ৩৮ বছর বয়সী থিবো কোর্তোয়া এবং ৩৯ বছর বয়সী কেভিন ডি ব্রুইনার বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
অন্য দিকে বেলজিয়ামের বিদায়ে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। মঙ্গলবার রাতে ডালাসের এই ম্যাচ এবারের আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি। অনেকের চোখে এটিই আসলে আগাম ফাইনাল, যেখানে টুর্নামেন্টের সেরা দুই দলই একে অপরের বিপক্ষে নামছে।
দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্সের আক্রমণভাগ সম্ভবত এই বিশ্বকাপের সেরা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগকে থামানো যে কোনো রক্ষণভাগের জন্যই দুঃসাধ্য।
তবে যদি কোনো দল সেটা করতে পারে, তাহলে সেটি সম্ভবত স্পেন। বেলজিয়ামের চার্ল ডি কেটেলারের গোলের আগে পুরো টুর্নামেন্টে একটিও গোল হজম করেনি স্পেন। কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালের বিপক্ষে টানা পাঁচটি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছিল তারা। ফলে ফ্রান্সের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রস্তুত থাকবে স্পেন।







