দেশের আবাসন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৬ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত একমাত্র আবাসন খাতের ট্রেডবডি হিসেবে রিহ্যাব গত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে।

আরও পড়ুন

পোশাকশিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, বর্তমানে আবাসন খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার ও পরিবহনসহ ৩০০টির বেশি লিংকেজ শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

এসময় ৬ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-

২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা ও নগরায়ণ বিবেচনায় জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালার যুগোপযোগী সংস্কার। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি গ্রহণ। মধ্যবিত্তের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ঋণের বিশেষ স্কিম চালু। নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামো যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশ নির্ধারণ। জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার। ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন এবং জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন।

ড. আলী আফজাল বলেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত মানুষের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে আবাসন খাতের উন্নয়ন হয় পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক হলে চলবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

এফবিসিসিআই নির্বাচন / মনোনীত পরিচালক নিয়ে আপত্তি ছোট ব্যবসায়ীদের, পক্ষে বড় ব্যবসায়ী ও সংগঠন

সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করতে চায় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক (পিপিপি) আবাসন কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এসময় তিনি রিহ্যাবের উত্থাপিত যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকাতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাইয়ুম এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদারসহ আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএআর/কেএসআর