পশ্চিম তুরস্কের প্রাচীন শহর সার্ডিস হাজার হাজার বছর ধরে গ্রিক, রোমান, বাইজেন্টাইন ও অটোমানদের উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়ে বিভিন্ন শাসকের অধীনে ছিল। শহরের শাসকরা বারবার পরিবর্তিত হলেও একটি বিষয় আশ্চর্যজনকভাবে অপরিবর্তিত থেকেছে। ১৯৫৮ সাল থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রতিবছর এখানে ফিরে এসেছেন। ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক খনন প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
হার্ভার্ড কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের শিল্পকলা ও ভিজ্যুয়াল স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বেঞ্জামিন অ্যান্ডারসন বলেন, ‘এর প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকাটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অনেকেই আগের প্রজন্মের খননকারী সহকর্মীদের চিনি এবং তাদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পেয়েছি। ফলে, এ অঞ্চলের হাতেগোনা যে কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পেরেছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।’
গত কয়েক বছর ধরে সার্ডিসের অ্যাক্রোপলিসের প্রাচীর ও ভবনগুলোর নথিবদ্ধকরণের কাজে মনোযোগ দিয়েছেন অ্যান্ডারসন। রোমান শাসনের পরবর্তী বাইজেন্টাইন যুগে স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, এটি এমন একটি শহর, যার উল্লেখ অনেক প্রাচীন ঐতিহাসিক নথিপত্রে পাওয়া যায়। তবে এখন ৭৫ বছর ধরে চলা একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্নতাত্ত্বিক যেসব নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলোর সাহায্যে আমরা সেই ইতিহাস তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। এ গ্রীষ্মকালটি আরও একটি মাইলফলক হয়ে রইল। কয়েক দশকের খননকাজ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তার ফলে সার্ডিস ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। লৌহ যুগের লিডিয়া রাজ্যের রাজধানী সার্ডিস ভূমধ্যসাগর ও আনাতোলীয় মালভূমির মধ্যবর্তী এক কৌশলগত অবস্থানে ছিল। হার্ভার্ড আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস অনুষদের শিল্পকলা ও ধ্রুপদী বিদ্যার ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক অ্যানেটা আলেকজান্দ্রাইডিসের মতে, এটি ছিল ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কেন্দ্রস্থল।’ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদদের কাছে লিডিয়া যুগটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুদ্রা আবিষ্কারের কৃতিত্ব ব্যাপকভাবে লিডিয়াদেরই দেওয়া হয়। তাদের শাসক রাজা ক্রোয়েসাস তার বিপুল সম্পদের জন্য কিংবদন্তিতুল্য হয়ে ওঠেন। পরবর্তীকালে আলেকজান্ডার লিডিয়া জয় করেন; এরপর সার্ডিস রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এক সময় এটি বাইজেন্টাইন ও অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে গণ্য হয়। সায়েন্স ডেইলি।








