ফুটবলের রূপকথা যেন নতুন করে লেখা হচ্ছে। মাত্র পাঁচ লক্ষাধিক জনসংখ্যার ছোট দ্বীপ দেশ কেপ ভার্দে, যাদের নাম ‘টুবারোয়েজ আজুল’ (নীল হাঙর), প্রথমবার বিশ্বকাপে পা রেখেই ইতিহাস গড়ছে। গ্রুপ এইচ-এ তাদের অভিষেক অভিযান শুরু হয় স্পেনের বিপক্ষে ০-০ ড্র দিয়ে। বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগকে দুর্দান্ত ডিফেন্স ও গোলরক্ষক ভোজিনহার অসাধারণ সেভে রুখে দেন তারা।
দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে আরও চাঞ্চল্যকর। কেভিন পিনার ফ্রি-কিকে এগিয়ে গিয়ে ২-২ ড্র করেন হেলিও ভারেলার গোলে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে সমানে লড়াই করে পয়েন্ট আদায়—এটাই কেপ ভার্দের জন্য বিশাল অর্জন।
শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট নিশ্চিত হয়েছে তাদের। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এই দল এখন রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
কোচ বুবিস্তা (পেড্রো লেইতাও ব্রিটো) বলেন, ‘আমরা শুধু অংশ নিতে আসিনি, প্রতিযোগিতা করতে এসেছি। স্বপ্ন দেখা এবং কষ্ট জয় করার গল্প আমাদের।’
খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে প্রস্তুত। তারা বিশ্বাস করেন, মাঠে সব দল সমান। ক্যাপ্টেন রায়ান মেন্ডেসসহ দলের সদস্যরা আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু বাস্তবতা স্বীকার করেন।
আর্জেন্টিনার সঙ্গে শক্তির ব্যবধান বিশাল। মেসি, লাউতারো, এনজোদের আক্রমণ, স্কালোনির ট্যাকটিক্স ও অভিজ্ঞতা কেপ ভার্দের চেয়ে অনেক এগিয়ে। স্কালোনি সাধারণত সব প্রতিপক্ষকে সম্মান করেন, তবে নির্দিষ্ট মন্তব্যে কেপ ভার্দেকে ‘কঠিন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবু আর্জেন্টিনা বড় ফেভারিট।
কেপ ভার্দের পথচলা রোমাঞ্চকর। আফ্রিকান বাছাইয়ে ক্যামেরুনকে হারিয়ে যোগ্যতা অর্জন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ লড়াই-এটাই তাদের শক্তি। মেসিদের সামনে তারা হয়তো হারবে, কিন্তু লড়াই করে বিশ্বকে আরেকবার চমকে দিতে পারে। ফুটবলের এমনই ম্যাজিক!
আরআই/এমএমআর








