লিওনেল মেসি এই প্রজন্মের জন্য এক অদ্বিতীয় ফুটবল ব্যক্তিত্ব। যে অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে তিনি জন্মেছেন, তার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়েছেন নিজের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও জাদুকরী নৈপুণ্যের মাধ্যমে। মাঠে তার উপস্থিতি এখনো সমানভাবে মুগ্ধ করে। বয়স বাড়লেও তার উচ্ছ্বাস, সৃজনশীলতা ও খেলার প্রতি নিবেদন এতটুকু কমেনি। মাঠে নামলেই গড়ছেন নতুন রেকর্ড, আবার নিজেই সেই রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবেন, তা এখনই বলা কঠিন।
একই সময়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু আলোচনা ও বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। আসলে ফুটবলে উত্থান-পতন থাকবেই। রোনাল্ডো এত বড় মাপের খেলোয়াড় বলেই এই বয়সেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছেন। তবে বয়সের প্রভাব তার খেলায় কিছুটা হলেও পড়তে শুরু করেছে। ফুটবল সবসময়ই যৌবনের খেলা। এখানে টিকে থাকতে হলে শক্তি, গতি ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি। সেই তুলনায় মেসি এখনো নিজেকে অসাধারণভাবে ধরে রেখেছেন। বয়সকে যেন তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। রোনালদোকে নিয়ে পর্তুগালের কোচ ভিন্নভাবে ভাবতে পারেন। বিশেষ করে দলের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায়। বাস্তবতা মেনে ম্যাচের শেষভাগে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বদলি হিসাবে তাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই অল্প সময়েই তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা ও গোল করার সহজাত দক্ষতায় তিনি এখনো দলের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে এখন শুরু হচ্ছে নকআউট লড়াই। আজ মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ব্রাজিল ও লড়াকু জাপান। জাপান কখনো সহজে হার মানে না। তারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়ে যায়। তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই ব্রাজিলের। ম্যাচটি যে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তা বলাই যায়। ব্রাজিলের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং দলে থাকা কয়েকজন ম্যাচজয়ী তারকার কারণে আমি তাদের সামান্য এগিয়ে রাখব। কারণ এমন খেলোয়াড় তাদের আছে, যারা এক মুহূর্তেই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। গ্রুপপর্বে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্স হতাশাজনক। সাধারণত জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে ঘিরেই আমাদের প্রত্যাশা বেশি থাকে। এবার একটি ম্যাচেও না হেরে ইরানের বিদায় নেওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক, দক্ষিণ কোরিয়াও ভালো খেলেছে। এশিয়ান দলগুলোর জন্য শারীরিক গঠন ও উচ্চতার বিষয়টি এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো আফ্রিকার উত্থান। আফ্রিকার দলগুলো এই আসরে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। তাদের আত্মবিশ্বাস, গতি, শক্তি এবং কৌশলগত পরিপক্বতা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তারা আরও বড় চমক উপহার দিতে পারে বলেই মনে হচ্ছে।








