বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানা পরিদর্শন করে আহত পুলিশ সদস্যদের খোঁজ নিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আজ শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া থানায় পৌঁছে হামলার ঘটনায় ভাঙচুর করা কক্ষ পরিদর্শন শেষে আহত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকরা থানায় হামলার ঘটনার মামলায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রিপন ও সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামের নাম প্রত্যাহারে মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই হামলার ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় যেন কোন নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির স্বীকার না হয় সে ব্যপারেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ খান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় গত বুধবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানার জেল হাজতে নিজের মাথায় আঘাত করে সে জ্ঞান হারায়। পরদিন বৃহস্পতিবার রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানার ভিতরে ঢুকে পুলিশকে মারধর ও কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা দুই-তিনশ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গতকাল শনিবার পর্যন্ত নারী-পুরুষসহ ২২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।








