নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ১৭৫ দিন ধরে বেকার রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী। যোগদান না হওয়ায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না তারা। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা গত ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে যোগদান ও পদায়নের বিষয়ে নির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় রোববার (২ আগস্ট) থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এর মধ্যে শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অক্টোবরে যোগদান করানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের এ ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন

শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি / ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে যোগদানের আশ্বাস না পেলেই ফের আন্দোলন

তাদের দাবি- নিয়োগ বিধিমালা মেনে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই তাদের যোগদান ও পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবিতে পূর্বঘোষিত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দাবিতে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা চলতি আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা চাই। অক্টোবর অনেক দূরে। নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করেও ১৭৫ দিন বসে আছি আমরা। আরও যদি তিনমাস সময় নেওয়া হয়, সেটা আমাদের সঙ্গে চরম অমানবিক হবে।’

লাগাতার কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের আগামীকালের কর্মসূচি চলবে। অক্টোবরে যোগদান করানোর যে ঘোষণা মন্ত্রণালয় দিয়েছে, সেটা আমরা মানছি না। আমরা আগস্টের মধ্যেই যোগদান চাই। যদি মন্ত্রণালয় আগস্টের মধ্যে যোগদানের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে আমরা কর্মসূচি থেকে সরে আসবো।’

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, প্রাথমিকের জন্য সুপারিশ করা ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতায় এ কাজ বিলম্বিত হয়েছে। আশা করি, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এএএইচ/এমএএইচ/