এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করাসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি তুলে ধরেন পরিষদের নেতারা। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে তাদের আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নেওয়া এবং সরকারি চাকরির আদলে শিক্ষকদের আন্তবদলির ব্যবস্থা চালু করা, দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে অন্তত দুটি করে কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু এবং প্রতি ট্রেডে দুজন করে ট্রেড ইন্সট্রাক্টরের পদ পুনর্বহাল, প্রতি মাসের ১ তারিখের মধ্যে বেতন নিশ্চিত করা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়া বিএড, উচ্চতর স্কেল ও এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করা, শিক্ষক-কর্মচারী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সব এমপিওভুক্ত কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
দাবিপত্রে মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক (কারিগরি) পদ সৃষ্টি এবং পৃথক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, কারিগরি কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিকদের দশম গ্রেড প্রদান এবং নন-এমপিও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবিও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, কারিগরি শিক্ষা খাতের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। প্রশাসনিক জটিলতা, বেতন-ভাতা প্রদানে বিলম্ব, পদোন্নতির সুযোগের অভাব এবং অবকাঠামোগত সংকটের কারণে কারিগরি শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
এ সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজী, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান, উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদ মোশারফ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সদস্যসচিব আশরাফুজ্জামান হানিফ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অবিলম্বে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। নাহয় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও জানান।








