বিগত বছরগুলোতে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়ার নামে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। একই সঙ্গে বিমান ভাড়া নির্ধারণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা উপলক্ষে বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান মহাসচিব। এ সময়ে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে হাব মহাসচিব বলেন, ২০২৩ সালে হঠাৎ করে বিমান ভাড়াটা ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। ২০২৪ সালে এই ধারাটা অব্যাহত থাকে। আমরা ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিমান ভাড়াটা পর্যায়ক্রমে কমতে থাকে। একই প্রোডাক্ট, একই জিনিস, আপনি ২ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন, তখন ডলার মূল্য ছিল ১০০ টাকা। এখন ডলার মূল্য ১২৫ টাকা, এই প্রোডাক্টের দাম হওয়ার কথা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আমরা সেটিকে কমিয়ে আনতে আনতে এখন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় এনেছি। আপনারা জানেন যে কোনো জিনিস অনেক বেড়ে গেলে, সেটি এক ধাপে নামানো যায় না। আমরা কাজ করছি, ইনশাল্লাহ আগামী বছর আরও কমবে এবং এটি বাস্তবভিত্তিক হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা প্রমাণ করতে চাই, আগে যে বিমান ভাড়াটি ছিল, অন্যায্য ছিল, অনৈতিক ছিল। এই দেশের মানুষের ওপর এটা লুটপাট করা হয়েছে। আমরা মনে করি এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। যারা এ প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। এটি সারা বাংলাদেশের মানুষ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।'
এজেন্সির মালিকানা যাচাই ছাড়া লেনদেন না করার অনুরোধ
ফরিদ আহমেদ মজুমদার আরও বলেন, 'ইতোমধ্যে ফেইসবুক সহ বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় লাইসেন্স বিহীন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা, বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি (সেলিব্রেটি) লোভনীয় অফার দিয়ে হজযাত্রী সংগ্রহ করছেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে হজযাত্রীগণ প্রতারিত হচ্ছেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।'
'আমরা আপনাদের মাধ্যমে সব ধর্মপ্রাণ হজ গমনেচ্ছু ভাই ও বোনদের, হজ লাইসেন্সের মালিকানা যাচাই না করে কোনোরকম চুক্তিবদ্ধ কিংবা আর্থিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করছি।'
তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরাহ মেলা
সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মধ্যস্বত্বভোগী জানিয়ে মহাসচিব বলেন, ‘হজযাত্রীরা যাতে সরাসরি বৈধ এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান সে লক্ষ্যে প্রত্যেক বছর আমরা জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরাহ মেলার আয়োজন করে থাকি। এ বছর আগামী ৩০, ৩১ জুলাই ও ১ আগস্ট বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরাহ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।’
আরএমএম/এমএএইচ/








