আগে কখনও গ্রুপ পর্ব পার হতে না পারা আইভরি কোস্ট এবার শেষ ৩২-এ নাম লিখিয়েই ইতিহাস গড়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হলো না আফ্রিকান দলটির। তাদের কাঁদিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরাটা দারুণভাবে রাঙিয়ে চলেছে নরওয়ে। বুধবার (১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এটিই বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ সাফল্য। এই জয়ের ফলে আগামী রোববার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। ​ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। ৩৯ মিনিটে নরওয়ের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন আন্তোনিও নুসা। বক্সের সামনে থেকে বাম দিকে ওডেগার্ডের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান নুসা। এরপর ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন আর্লিং হলান্ড, তবে তাঁর দুর্বল শট প্রতিহত হয় আইভরি কোস্টের রক্ষণে। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে নরওয়ের গোলকিপার নাইল্যান্ড এবং তোরবিয়র্ন হেগগের জোড়া সেভে গোলবঞ্চিত হয় আইভরি কোস্ট। এর ১০ মিনিট পর নরওয়ের সরলথের নিশ্চিত হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন আমাদ দিওলো। ​ম্যাচে ফিরতে মরিয়া আইভরি কোস্ট অবশেষে ৭৪ মিনিটে সমতা ফেরায়। ডান দিকে পেপের কাছ থেকে বল পেয়ে নরওয়ের কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রাইট উইঙ্গার আমাদ দিওলো। এরপর বা পায়ের জোরাল শটে নরওয়ের গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে তিনি বলেন, "দলের এই সমতা আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে।" তবে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে নরওয়ের জয়সূচক গোলটি করেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলকিপারকে পরাস্ত করে প্যাট্রিক বার্গ ক্রস বাড়ান দূরের পোস্টে থাকা হলান্ডের দিকে। ফাঁকা পোস্টে আলতো টোকায় বল জালে ঠেলে দিয়ে হলান্ড বলেন, "ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল পেয়ে জয় নিশ্চিত করাটা সবসময়ই আনন্দের।" এই আসরে এটি হলান্ডের পঞ্চম গোল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ওডেগার্ড ও হলান্ডরা মাঠেই সমর্থকদের সঙ্গে মেতে ওঠেন ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিংস’ উদযাপনে।