রাউন্ড অব ৩-২ এ আজ দিনের প্রথম ম্যাচটি নিশ্চিত বেশ আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। এই ম্যাচের বিজয়ী দলই রাউন্ড অব-১৬ এ মুখোমুখি হবে ব্রাজিলের। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

গ্রুপ পর্বে দুই দলই দারুণ পারফরম্যান্স করে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এবার ভুলের কোনো সুযোগ নেই। জিতলে শেষ ষোলো, হারলেই শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ অভিযান।

এই ম্যাচটি আইভরি কোস্টের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে যাচ্ছে তারা। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসে নরওয়ে চাইছে ২৮ বছর পর আবারও নকআউট জয়ের স্বাদ নিতে।

হালান্ডকে নিয়েই বড় স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে

গ্রুপ পর্বে মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই চার গোল করেছেন নরওয়ে তারকা আরলিং হালান্ড। আগেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। যে কারণে পুরোপুরি সতেজ অবস্থায় মাঠে নামবেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। তার দিকেই তাকিয়ে দুই দল। একদিকে নরওয়ে তার ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে আইভরি কোস্ট চেষ্টায় থাকবে হালান্ডকে আটকে রাখতে। কারণ, এই এক তারকাই সব পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।

নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাকেন নিজের অধিনায়কের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ‘হালান্ড আমাদের প্রকৃত নেতা। মাঠে সে উদাহরণ সৃষ্টি করে নেতৃত্ব দেয়। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সে। গোল করার যে সহজাত ক্ষমতা তার আছে, সেটা শেখানো যায় না। বল কোথায় পড়বে, সেটা যেন সে আগেই বুঝে ফেলে। এটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

গ্রুপ ‘আই’-এ দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নকআউটে উঠেছে নরওয়ে। প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করে রাউন্ড অব-৩২।

বিশ্বকাপে নিজের অভিষেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন হালান্ড। মাত্র দুই ম্যাচে চার গোল করে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন তিনি। পাশাপাশি অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড দুটি অ্যাসিস্ট করে মাঝমাঠে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় আইভরি কোস্ট

২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮- টানা তিনটি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল আইভরি কোস্ট। এবার সেই হতাশা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দলটি।

আরও একটি দিক থেকে এই অর্জন ঐতিহাসিক। দিদিয়ের দ্রগবা, ইয়াইয়া তোরে ও কোলো তোরেদের ‘সোনালি প্রজন্ম’ও কখনও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। সেই অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ করেছে বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলাররা। গ্রুপ পর্বে জার্মানির বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারলেও পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে রাউন্ড অব-৩২-এ উঠে আসে তারা।

দলের আক্রমণভাগে সবচেয়ে উজ্জ্বল নিকোলা পেপে। তিন ম্যাচে দুই গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। এছাড়া আমাদ দিয়ালো ও ফ্রাঙ্ক কেসিয়েও একটি করে গোল করেছেন। তরুণ ইয়ান দিয়োমান্দের গতিও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

হালান্ড বনাম দিয়োমান্দে- ম্যাচের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ

ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই হতে পারে আরলিং হালান্ড ও আইভরি কোস্টের সেন্টার-ব্যাক উসমান দিয়োমান্দের মধ্যে। দৈহিক শক্তি, আকাশে আধিপত্য ও বক্সের ভেতরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য পরিচিত হালান্ডকে আটকানোই হবে আফ্রিকান দলটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিংয়ের ডিফেন্ডার দিয়োমান্দে ইতোমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল সেন্টার-ব্যাক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

পরিসংখ্যান অবশ্য কিছুটা এগিয়ে রাখছে নরওয়েকে। ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে আইভরি কোস্ট শেষ পাঁচ ম্যাচে মাত্র একবার জিতেছে (১ জয়, ১ ড্র, ৩ হার)। অন্যদিকে আফ্রিকার দেশগুলোর বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ ম্যাচে মাত্র দুটি হার নরওয়ের (৯ জয়, ৮ ড্র, ২ হার)।

সম্ভাব্য একাদশ

আইভরি কোস্ট: ইয়াহিয়া ফোফানা; গেলা দুয়ে, ওদিলোঁ কোসুনু, এমমানুয়েল আগবাদু, ঘিসলাঁ কোনান; আমাদ দিয়ালো, ইব্রাহিম সাঙ্গারে, ফ্র্যাঙ্ক কেসিয়ে, ইয়ান দিয়োমান্দে; নিকোলা পেপে, এভান বোনি।

নরওয়ে: অরইয়ান নিল্যান্ড; মার্কুস পেডারসেন, ক্রিস্টোফার আয়ের, টরবিয়ার্ন হেগেম, ডেভিড উলফ; মার্টিন ওডেগার্ড, সান্দের বের্গে, ফ্রেডরিক আউরসনেস; আলেক্সান্ডার সোরলোথ, আর্লিং হালান্ড, আন্তোনিও নুসা।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা

দুই দলই এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। আইভরি কোস্টের সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুতগতির আক্রমণের বিপরীতে নরওয়ের শক্তি হালান্ড-ওডেগার্ড জুটি। কাগজে-কলমে নরওয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আইভরি কোস্ট ইতোমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে, তারা বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।

শিরোপার অন্যতম ফেভারিট না হলেও, এই দুই দলের লড়াইটি রাউন্ড অব-৩২-এর সবচেয়ে উপভোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার সব উপকরণই রয়েছে।

আইএইচএস/