বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হেরা ফেরি ৩’ ঘিরে জটিলতা যেন শেষই হচ্ছে না। একের পর এক আইনি বিরোধের মধ্যেই এবার ছবির পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নির্মাতা প্রিয়দর্শন। তার এ সিদ্ধান্তে সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

‘হেরা ফেরি ৩’ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই নানা বিতর্ক চলছে। প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালাকে ঘিরে আইনি জটিলতা, প্রযোজনা-সংক্রান্ত বিরোধ এবং বিভিন্ন পক্ষের মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যেই প্রিয়দর্শনের সরে দাঁড়ানোর খবর ভক্তদের হতাশ করেছে।

ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়দর্শন বলেন, ‘ফিরোজ যা বলেছেন, তা সত্যি। বর্তমানে আমি আর “হেরা ফেরি ৩” র সঙ্গে যুক্ত নই।’

কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়েও মুখ খুলেছেন এই নির্মাতা। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা আইনি জটিলতা তাকে বিরক্ত করে তুলেছে। শুধু তাই নয়, সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি আশাবাদী নন।

আরও পড়ুন

সালমানের সঙ্গে ব্রেকআপের পর যা সহ্য করতে হয়েছিল ঐশ্বরিয়াকে

প্রিয়দর্শন বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে “হেরা ফেরি ৩” হয়তো কোনোদিনই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে না। তাই আমি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটি এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

চলতি বছরের এপ্রিলে ‘হেরা ফেরি ৩’ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় জানানো হয়, প্রথম কিস্তির পরিচালক প্রিয়দর্শনই আবারও পরিচালনার দায়িত্বে ফিরছেন। ফলে অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি ও পরেশ রাওয়ালকে তার পরিচালনায় আবার একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন দর্শকরা।

কিন্তু নতুন এই ঘোষণায় সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লাগল। এখন ছবিটি আদৌ নির্মিত হবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন

দীপিকা-ক্যাটরিনাকে ছাড়িয়ে বলিউডে নতুন রেকর্ড আলিয়ার

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হেরা ফেরি’ বলিউডের অন্যতম সফল কমেডি সিনেমা। প্রিয়দর্শনের পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিতে অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি ও পরেশ রাওয়ালের অভিনয় দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। এরপর ২০০৬ সালে নীরজ ভোরার পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘ফির হেরা ফেরি’, যা বক্স অফিসেও সফল হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর তৃতীয় কিস্তির ঘোষণা দর্শকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। তবে আইনি জটিলতা ও পরিচালকের সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় ‘হেরা ফেরি ৩’র ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

এমএমএফ/এএসএম