বাংলাদেশের সংগীত আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আলম খান। আজ ৮ জুলাই এই গুণী গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত পরিচালকের মৃত্যুদিবস। দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা এবং অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দেওয়া আলম খান আজও কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে বেঁচে আছেন। তার সুরে গাওয়া গানগুলো যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তেমনই শিল্পীদের ক্যারিয়ারেও রেখেছে গভীর ছাপ।

১৯৪৪ সালের ২২ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন (খুরশিদ) আলম খান (আলম খান)। তার পৈতৃক নিবাস টাঙ্গাইলে। পারিবারিক পরিবেশে মায়ের অনুপ্রেরণায় সংগীতে তার হাতেখড়ি হয় এবং পরে ওস্তাদ ননী চ্যাটার্জীর কাছে তিনি গানের আনুষ্ঠানিক তালিম নেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কিংবদন্তি পপ সম্রাট আজম খান ছিলেন তার ছোট ভাই। আলম খানের পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয় ১৯৬৩ সালে প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষের সহকারী হিসাবে ‘তালাশ’ চলচ্চিত্রে। এরপর ১৯৭০ সালে ‘কাচ কাটা হীরে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি একক সংগীত পরিচালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার সুরের জাদুতে বাংলা চলচ্চিত্রের গান এক নতুন মাত্রা পায়। তার অবিস্মরণীয় সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে-‘সারেং বউ’ চলচ্চিত্রের ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ছবির ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’ এবং ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’-এর মতো অজস্র কালজয়ী গান। তার নিখুঁত সুরারোপের কারণে আব্দুল জব্বার, সাবিনা ইয়াসমিন এবং এন্ড্রু কিশোরের মতো শিল্পীদের কণ্ঠের গানগুলো মানুষের মুখে মুখে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আলম খান সাতবার ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ অর্জন করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি গীতিকার হাবিবুন্নেসা গুলবানুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার দুই ছেলেও বর্তমানে সংগীত পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। আলম খানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গাওয়া ‘তুমি তো এখন আমারই কথা ভাবছো’ গানটির গীতিকার গুলবানু। এই দম্পতির দুই ছেলে আরমান খান ও আদনান খানও সংগীত পরিচালক। ২০১১ সালে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২২ সালের ৮ জুলাই আলম খান শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা সংগীতজগতে তার কালজয়ী অবদানকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করছি। সুরের মাঝে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।