ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এবং ত্রিপুরার আগরতলা স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি সামান্য বাড়লেও কমেছে আমদানি। তাছাড়া যাত্রী পারাপার হ্রাস পাওয়ায় কমেছে ভ্রমণকরও। বাণিজ্য কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্র জানায়, সদ্যবিদায়ি অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা। ব্যবসায়ীদের অনীহায় অনিয়মিত পণ্য আমদানির কারণে রাজস্ব আয়ও ঠেকেছে তলানিতে।

বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে উচ্চ চাহিদসম্পন্ন বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত সরকার, যার প্রভাব কাটিয়ে এখনো উঠতে পারেনি আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারকরা। ফলে সামগ্রিকভাবে বন্দরের রপ্তানি আয় আশানুরূপ বাড়েনি এবং আমদানি বাণিজ্যেও ভাটা পড়েছে। আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে আরও জানা গেছে, বিদায়ি অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছে ৪৯ হাজার ৭০০.৭৫ টন পণ্য, যার বাজারমূল্য ৫২৪ কোটি ২৮ লাখ ৯২ হাজার ৩৮ টাকা। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৪ হাজার ৩২২.০৯ মেট্রিক টন পণ্য, যার বাজারমূল্য ছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকা। এদিকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১৭৭.১ মেট্রিক টন পণ্য, আমদানিকৃত পণ্য থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যা ছিল ২৫৮.৯১ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে সরকার রাজস্ব পেয়েছিল ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৪৬ হাজার ৪৬১ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী বাংলাদেশ থেকে ভারত ভ্রমণ করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় ভ্রমণকর থেকে সরকারের আয় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ১৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৬০ হাজার ৪৫২ জন যাত্রী আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্তপথে ভারতে ভ্রমণ করেছেন। ওই বছর ভ্রমণকর থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছিল ৬ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে ৩১ হাজার ৫০৫ জন যাত্রী বাংলাদেশে এসেছেন। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে ৪০ হাজার ৫০৯ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন।

আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্ট ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে বৈরিতা চলছিল। এতে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার কমেছে। পরে ভারতীয় ভিসা জটিলতায় যাত্রী যাতায়াতও হ্রাস পেয়েছে। এখন ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশেরই ভিসা প্রক্রিয়া জটিলতা নিরসন হওয়ায় যাত্রী পারাপার বাড়লে ভ্রমণকর থেকে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজিব উদ্দিন ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, ভারত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্য ব্যতিরেকে অন্যান্য পণ্যসামগ্রী আমদানির অনুমতি পাওয়া গেছে। এখন এ পথে বাণিজ্য বাড়বে এবং সরকারও রাজস্ব পাবে। আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যে টানাপোড়েন ছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। তবে আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। কিন্তু সেটি না করায় এবার আমাদের রপ্তানি আয় আশানুরূপভাবে বাড়েনি। আমাদের দাবি থাকবে, দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করবে।