চট্টগ্রামে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) মেয়র চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কসংলগ্ন ওয়াজেদিয়া, বোর্ড অফিস, চালিতাতলী বাজার, হাজীপাড়া, বেলতলা ও শহীদনগরসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অস্বাভাবিক ও মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

তিনি বলেন, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে সহায়তা প্রদান, খাবার বিতরণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ সময় মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন, খাল-নালা সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে মেয়রের উদ্যোগে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ১০ হাজার পরিবারের মধ্যে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এর আগে একই দিন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে চান্দগাঁওয়ের হাজীরপুল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক ও শমসেরপাড়াসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন

উচ্চ ঝুঁকিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার আশঙ্কা

সেখানে প্রায় এক হাজার পরিবারের মধ্যে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কোথায় পানি আটকে আছে এবং পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সে বিষয়ে মতামত নেন।

পরিদর্শনের সময় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মাসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির স্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএএইচ/এনএইচআর