টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর এবার সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ বন্যা দেখা দিতে পারে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এফএফডব্লিউসি জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খোয়াই, মনু ও কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময়ে সুরমা, কুশিয়ারা ও মনু নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, কুশিয়ারা ও সুরমা নদী-সংলগ্ন সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

গাইবান্ধায় তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন, আতঙ্কে মানুষ

এফএফডব্লিউসি জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত কয়েক দিনে সিলেট বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে সিলেট ও আশপাশের উজান এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সাতটি জেলা বন্যাকবলিত। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরও আটটি জেলা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার ইতোমধ্যে বন্যার কবলে পড়লেও সিলেট ও সুনামগঞ্জকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় রাখা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর আগামীদিনের পরিস্থিতি নির্ভর করবে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সিলেট অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়েছে।

আহমেদ জামিল/এনএইচআর