ছয় বিশ্বকাপে খেলে সব কটিতেই খালি হাতে বিদায়—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য সময়টা যারপরনাই হতাশার। তবে এমন বিদায়ের মধ্যেও আত্মতৃপ্তি আছে পর্তুগিজ মহাতারকার। তাঁর দাবি, দেশের হয়ে নিজের সামর্থ্যের সবটুকুই উজাড় করে দিয়েছেন। আর সে কারণেই বিদায়ের মুহূর্তে বিবেকের কাছে নিজেকে নির্ভার মনে হচ্ছে তাঁর।
বিদায়ের পর নিজের জাতীয় দল ক্যারিয়ারের অর্জনের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন রোনালদো। বলেছেন, তাঁর আগে পর্তুগাল কোনো শিরোপাই জেতেনি, অথচ তাঁর সময়ে দল জিতেছে তিনটি ট্রফি।
স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর রোনালদো আরেকবার নিশ্চিত করেছেন, এটিই ছিল তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাকেই নিজের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান মর্যাদা দেন তিনি, ‘আমি ২০১৬ ইউরো জিতেছি। আমার কাছে সেই শিরোপার মর্যাদা বিশ্বকাপ জয়ের সমান। সেই অর্জন চিরকাল আমার সঙ্গেই থাকবে। আগামীকাল নতুন একটি দিন, আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
বিদায় রোনালদো, স্বাগত নতুন পর্তুগালইউরোর পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগও জিতেছেন রোনালদো। ২৩ বছরের জাতীয় দল ক্যারিয়ারে পাওয়া এসব সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমার আগে এই দলের কোনো শিরোপাই ছিল না। তাই আমার খুশি হওয়ারই কথা।’
আগেই বলেছিলেন, এটিই হবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ম্যাচের পর আবারও সেটি নিশ্চিত করে রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। এখন আমার সামনে ভাবার সময় থাকবে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থাকবে। জীবন তো চলতেই থাকবে। আমি বিবেকের কাছে নির্ভার থেকে বিদায় নিচ্ছি। ফুটবলে কখনো জিততে হয়, কখনো হারতে হয়।’
জাতীয় দলের হয়ে অর্জন নিয়ে গর্বের কথা বললেও বিদায়ের কষ্ট আড়াল করেননি রোনালদো। তিনি বলেন, ‘এভাবে বিদায় নিতে হওয়ায় এখন অবশ্যই খারাপ লাগছে। কিন্তু আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, মাঠে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। আমরা ভালোই খেলেছি, দলের পারফরম্যান্সও খারাপ ছিল না। অবশ্য আরও ভালো করা যেত। তবে স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। আমার বিশ্বাস, তারা ফাইনালে উঠবে, অথবা অন্তত তার খুব কাছাকাছি যাবে।’







