জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত চঞ্চল চন্দ্র সরকারের ছোট ভাই উৎপল চন্দ্র সরকার বলেছেন, ‘যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু ছিল তারা কেউই এই মামলায় আসামি হয়নি, কিন্তু আমার ভাইকে ভিকটিম বানানো হয়েছে।’

তিনিও সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড), অস্ত্র ইস্যু না থাকা এবং গ্রেফতারের সময় নিয়ে প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে আপিলের ঘোষণা দেন।

প্রসিকিউশনের দাখিল করা সিডিআর অনুযায়ী বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চঞ্চলের ডিউটি রামপুরা টিভি ভবনের তিন নম্বর গেটে ছিল দাবি করে উৎপল বলেন, ‘২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত যদি ওই মামলার ঘটনাগুলো হয়ে থাকে তাহলে আমার ভাই ৩টা ৪৫ পর্যন্ত রামপুরা টিভি ভবনে।’

আরও পড়ুন

যুবককে গুলি ও দুই হত্যা / ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

‘সে ওই মামলায় কীভাবে অকারেন্সগুলো করলো? ট্রাইব্যুনালে বিচারকরা প্রসিকিউশনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেও তারা কোনো উত্তর দিতে পারেননি, চুপ ছিল।’

ঘটনার দিন চঞ্চলের নামে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ ইস্যু করা ছিল না দাবি করে উৎপল বলেন, ‘যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু ছিল, তারা এই মামলায় আসামি হয়নি।’

গ্রেফতারের সময় নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে উৎপল বলেন, ‘গত ২৬ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার তাকে ক্লোজ করেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে তার অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে ২৮ জানুয়ারি। তাহলে এই ৪৮ ঘণ্টা সে কোথায় ছিল?’

তবে বিচার ব্যবস্থার ওপর পরিবারের আস্থা আছে জানিয়ে উৎপল বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আপিলে যাব। আমি আপিলে যেতে বাধ্য।’

এর আগে রোববার (২৮ জুন) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় দেন।

 

আরও পড়ুন

ঘটনাস্থলেই ছিলেন না ২০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত এএসআই চঞ্চল: দাবি আইনজীবীর

রায়ে এই মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (এরই মধ্যে চানখাঁরপুলের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত এই চার আসামিই পলাতক।

এছাড়া এই মামলায় এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার দিন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এফএইচ/এমআইএইচএস