হতে পারে এটিই ক্রিশ্চিয়ানা রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রাউন্ড অফ-৩২’র এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে বেশ নির্ভার এই আল নাসর তারকা। সঙ্গে ম্যাচটি খেলতে টরন্টোতে পৌঁছেই আবেগে ভাসলো পুরো পর্তুগাল দল।

টরন্টো শহরের অধিকাংশ অধিবাসী পর্তুগিজ, এমনকি এখানে বিশাল সংখ্যক ক্রোয়েশিয়ানেরও বসবাস; কিন্তু ক্রোয়াটদের ছাপিয়ে শহরে বসবাসরত হাজার হাজার পর্তুগিজ প্রবাসী নিজেদের জাতীয় দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। যদিও সব আলো কেড়ে নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যাকে বিশ্বকাপে শেষবারের মতো খেলতে দেখতে চান না তার ভক্তরা।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে পর্তুগাল দলের খেলোয়াড়রাও সেই আবেগের মধ্যেই নিজেদের প্রস্তুত করছেন। ম্যাচের আগে দলের অন্যতম তারকা ভিতিনহা বলেন, ‘জয়ের জন্য আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে।’

লুইস এনরিকের অধীনে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘আমরা শুধু বিশ্বকাপ বলেই জিততে চাই না। ব্যক্তি ও দল- দুই দিক থেকেই আমরা জিততে চাই এবং পরের রাউন্ডে উঠতে চাই। পুরো দেশের জন্য, আমাদের বাবা-মা, পরিবার, বন্ধুদের জন্য, জোতার জন্য এবং অবশ্যই ক্রিশ্চিয়ানোর জন্যও।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সত্যিই পরের ধাপে যেতে চাই। তবে সেটির যোগ্যতা আমাদের মাঠে প্রমাণ করতে হবে। আমি মনে করি, আমরা যদি ভালো ফুটবল খেলতে পারি, তাহলে পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা আরও বাড়বে। তাই আমাদের খেলায় আরও এক ধাপ এগোতে হবে এবং দলগতভাবে আরও ভালো পারফর্ম করতে হবে। সেটা করতে পারলে আমরা অবশ্যই এগিয়ে যাওয়ার আরও কাছাকাছি থাকব।’

ভিতিনহা স্বীকার করেন, গ্রুপ পর্বের তুলনায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালকে আরও ভালো ফুটবল খেলতে হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে হাসিখুশি মেজাজেই দেখা গেছে। যেন তিনি ভাবতেই চান না, আগামীকালের ম্যাচটিই হতে পারে তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। ৪১ বছর বয়সে এটিই হতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের শেষ সুযোগ।

অনুশীলন মাঠের বাইরে জড়ো হওয়া উচ্ছ্বসিত পর্তুগিজ সমর্থকদের অভিবাদন জানান সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। একপর্যায়ে তিনি নিজের বাম বুকে হাত রেখে সমর্থকদের উদ্দেশে ইঙ্গিত দেন- পর্তুগাল খেলবে হৃদয় উজাড় করে।

আরআর/আইএইচএস