নরওয়ের বিপক্ষে কখনো জেতা হয়নি—বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচের আগে এই সমীকরণ ব্রাজিলের জন্য একটা চিন্তার কারণ বটে। এ যাত্রায় ইতিহাস বদলাতে না পারলে বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে যাবে সেলেসাওদের। মাঠের লড়াই ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সে ম্যাচে আরও একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে কার্লো আনচেলত্তির দলের সামনে।
আগামী ৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় নিউইয়র্ক নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে খেলতে নামবে ব্রাজিল। স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেদিন নিউজার্সিতে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিরাজমান তাপপ্রবাহের কারণে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি অঞ্চলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর বলে চিহ্নিত করেছে মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লুএস)। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের বেলায় তাপমাত্রা অনুভূত হবে ৪০ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। রাতেও তা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে না। ফলে দিনের যেকোনো সময়ই উচ্চ তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকি থাকছে।
মেটলাইফ স্টেডিয়াম একটি উন্মুক্ত ভেন্যু। এখানে ডালাস, হিউস্টন বা আটলান্টার মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। যদিও ম্যাচ শুরুর সময়ের চূড়ান্ত পূর্বাভাস এখনো নিশ্চিত নয়। তবু এটা আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের চিহ্নিত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের মধ্যেই পড়ছে।
গরমের এই পরিস্থিতি পুরো বিশ্বকাপজুড়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রুপ পর্বের নয়টি ম্যাচ এমন তাপমাত্রায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রোর মতে সম্ভাব্য বিপজ্জনক।
ফিফপ্রোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যেসব ম্যাচে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যালোক ও বাতাসের গতি বিবেচনা করে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে, সেসব ম্যাচ স্থগিত বা অন্য কোনো সময় আয়োজন করা উচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা ভবিষ্যতে টুর্নামেন্ট ও লিগের সময়সূচি নির্ধারণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তীব্র গরমে শুধু খেলোয়াড়ই নয়, দর্শকেরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। দীর্ঘ সময় বাইরে অপেক্ষা, পার্কিং এলাকা ও খোলা জায়গায় অবস্থানের কারণে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও হিট এক্সহস্টশনের ঝুঁকি বাড়বে। এ অবস্থায় ফিফা ম্যাচে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক, পানি ও আইসোটোনিক পানীয় সরবরাহ, বরফ ও ঠান্ডা তোয়ালে বিতরণ এবং নিয়মিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ।








